ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

জরিপ ছাড়াই সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু উত্তোলনের কার্যাদেশ নৌপথ বিপর্যয়ের শঙ্কা; ফের আপত্তি বিআইডব্লিওটিএ’র

হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার আপত্তি উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে বাঁশবাড়িয়া পর্যন্ত সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু উত্তোলনের কার্যাদেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)।

নৌপথের নিরাপত্তা, উপকূল ভাঙন ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথা তুলে ধরে দ্রুত এই কার্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগ। তবে একের পর এক আপত্তি উপেক্ষা করেই ঠিকাদার নিয়োগ ও বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালু রেখেছে বন্দর।

সংরক্ষক কারা— তা নিয়েই দ্বন্দ্ব;

বিআইডব্লিওটিএ সূত্র জানায়, সন্দ্বীপ চ্যানেল একটি সংরক্ষিত উপকূলীয় নৌপথ এবং এর আইনগত সংরক্ষক বিআইডব্লিওটিএ। যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষের সীমানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এর আগেও শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এই চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিলে বিআইডব্লিওটিএ বাধা দেয়।

সংস্থাটি নিয়মিত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের মাধ্যমে চ্যানেলের গভীরতা, পলি জমা ও নৌযান চলাচলের ঝুঁকি নিরূপণ করে থাকে। অথচ যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান, ফেরি সার্ভিস এবং শিপ ব্রেকিং শিল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই বালু উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে চবক—এমন অভিযোগ বিআইডব্লিওটিএ’র।

আপত্তির পরও কার্যাদেশ;

তথ্য অনুযায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষের দরপত্র আহ্বানের পর গত ২৫ মে চট্টগ্রামস্থ বিআইডব্লিওটিএ কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যালয়ে আপত্তিমূলক চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ফেনী নদীর মোহনা থেকে কুমিরা চ্যানেল পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রতিবছর বিপুল ব্যয়ে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা করে বিআইডব্লিওটিএ। নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য বসানো হয়েছে লাইটেড বয়া, শোর বিকনসহ বিভিন্ন নৌ সহায়ক সরঞ্জাম।

তবু এসব আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মেসার্স এম আর ট্রেডার্সকে ৪ নম্বর ব্লক, ডিপ ডিগার্স লিমিটেডকে ২ নম্বর ব্লক এবং ২৩ সেপ্টেম্বর মেসার্স কনস্ট্রা এইড লিমিটেডকে ৩ নম্বর ব্লকে এক বছরের জন্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালি ও মাটি উত্তোলনের অস্থায়ী লাইসেন্স দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীঘাটে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে জেটি
বিআইডব্লিওটিএ বলছে, চুক্তির পর থেকেই বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট, গুপ্তছড়া ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী পরিবহন রুটে বালু উত্তোলন শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। যথাযথ জরিপ ছাড়া এভাবে বালু উত্তোলনে নৌরুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূল ভাঙন, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও বিআইডব্লিওটিএ’র জেটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ উপকূলে সংস্থাটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেটি রয়েছে। নদীর তলদেশ অতিরিক্ত ক্ষয় হলে এসব স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা কর্মকর্তাদের।

আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ ও বিআইডব্লিওটিএ’র দাবি, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী যান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগ করে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। এছাড়া সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নদীর ঢাল বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সন্দ্বীপ চ্যানেলে দেওয়া ইজারা এসব আইনি শর্ত পূরণ করে না।

এ বিষয়ে গত ২২ জুলাই বিআইডব্লিওটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানান, ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি অর্ডিন্যান্স, ১৯৫৮ এবং পোর্ট অ্যাক্ট, ১৯০৮ অনুযায়ী সন্দ্বীপ চ্যানেলের সংরক্ষক বিআইডব্লিওটিএ। সরকারের জারি করা এসআরও অনুযায়ী মিরসরাই-রাশমনি ও সন্দ্বীপ উপকূলীয় নদীবন্দরও বিআইডব্লিওটিএ’র অধীনে।

‘লাইফলাইন’ নৌপথ হুমকিতে খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরু এই চ্যানেলটি দেশের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ, চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌযোগাযোগ, শিপ ব্রেকিং শিল্প এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এই নৌপথ দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ থেকে বিপর্যয়ের পথে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিওটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বারবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ও বাস্তবতা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। এতে নৌযান চলাচল ও জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।”

তবে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিআইডব্লিওটিএ জানিয়েছে, দ্রুত দরপত্র ও কার্যাদেশ বাতিল না হলে বিষয়টি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় হয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

জরিপ ছাড়াই সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু উত্তোলনের কার্যাদেশ নৌপথ বিপর্যয়ের শঙ্কা; ফের আপত্তি বিআইডব্লিওটিএ’র

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার আপত্তি উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে বাঁশবাড়িয়া পর্যন্ত সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু উত্তোলনের কার্যাদেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ)।

নৌপথের নিরাপত্তা, উপকূল ভাঙন ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথা তুলে ধরে দ্রুত এই কার্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগ। তবে একের পর এক আপত্তি উপেক্ষা করেই ঠিকাদার নিয়োগ ও বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালু রেখেছে বন্দর।

সংরক্ষক কারা— তা নিয়েই দ্বন্দ্ব;

বিআইডব্লিওটিএ সূত্র জানায়, সন্দ্বীপ চ্যানেল একটি সংরক্ষিত উপকূলীয় নৌপথ এবং এর আইনগত সংরক্ষক বিআইডব্লিওটিএ। যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষের সীমানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। এর আগেও শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এই চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিলে বিআইডব্লিওটিএ বাধা দেয়।

সংস্থাটি নিয়মিত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের মাধ্যমে চ্যানেলের গভীরতা, পলি জমা ও নৌযান চলাচলের ঝুঁকি নিরূপণ করে থাকে। অথচ যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান, ফেরি সার্ভিস এবং শিপ ব্রেকিং শিল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই বালু উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে চবক—এমন অভিযোগ বিআইডব্লিওটিএ’র।

আপত্তির পরও কার্যাদেশ;

তথ্য অনুযায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষের দরপত্র আহ্বানের পর গত ২৫ মে চট্টগ্রামস্থ বিআইডব্লিওটিএ কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যালয়ে আপত্তিমূলক চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ফেনী নদীর মোহনা থেকে কুমিরা চ্যানেল পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রতিবছর বিপুল ব্যয়ে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা করে বিআইডব্লিওটিএ। নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য বসানো হয়েছে লাইটেড বয়া, শোর বিকনসহ বিভিন্ন নৌ সহায়ক সরঞ্জাম।

তবু এসব আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মেসার্স এম আর ট্রেডার্সকে ৪ নম্বর ব্লক, ডিপ ডিগার্স লিমিটেডকে ২ নম্বর ব্লক এবং ২৩ সেপ্টেম্বর মেসার্স কনস্ট্রা এইড লিমিটেডকে ৩ নম্বর ব্লকে এক বছরের জন্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালি ও মাটি উত্তোলনের অস্থায়ী লাইসেন্স দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীঘাটে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে জেটি
বিআইডব্লিওটিএ বলছে, চুক্তির পর থেকেই বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট, গুপ্তছড়া ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী পরিবহন রুটে বালু উত্তোলন শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। যথাযথ জরিপ ছাড়া এভাবে বালু উত্তোলনে নৌরুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূল ভাঙন, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও বিআইডব্লিওটিএ’র জেটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ উপকূলে সংস্থাটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেটি রয়েছে। নদীর তলদেশ অতিরিক্ত ক্ষয় হলে এসব স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা কর্মকর্তাদের।

আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ ও বিআইডব্লিওটিএ’র দাবি, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী যান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগ করে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। এছাড়া সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নদীর ঢাল বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সন্দ্বীপ চ্যানেলে দেওয়া ইজারা এসব আইনি শর্ত পূরণ করে না।

এ বিষয়ে গত ২২ জুলাই বিআইডব্লিওটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানান, ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি অর্ডিন্যান্স, ১৯৫৮ এবং পোর্ট অ্যাক্ট, ১৯০৮ অনুযায়ী সন্দ্বীপ চ্যানেলের সংরক্ষক বিআইডব্লিওটিএ। সরকারের জারি করা এসআরও অনুযায়ী মিরসরাই-রাশমনি ও সন্দ্বীপ উপকূলীয় নদীবন্দরও বিআইডব্লিওটিএ’র অধীনে।

‘লাইফলাইন’ নৌপথ হুমকিতে খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরু এই চ্যানেলটি দেশের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ, চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌযোগাযোগ, শিপ ব্রেকিং শিল্প এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এই নৌপথ দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ থেকে বিপর্যয়ের পথে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিওটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বারবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ও বাস্তবতা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। এতে নৌযান চলাচল ও জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।”

তবে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিআইডব্লিওটিএ জানিয়েছে, দ্রুত দরপত্র ও কার্যাদেশ বাতিল না হলে বিষয়টি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় হয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।