ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনে এডিবির ৬৮৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণ

 

চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার রেললাইন উন্নয়ন ও নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারকে ৬৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ লক্ষ্যে আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

এডিবির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় ৩৫ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়নের পাশাপাশি ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাইপাস রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এর ফলে চট্টগ্রাম স্টেশনে না থেমেই ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরে নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা আঞ্চলিক পরিবহন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং বলেন, এই প্রকল্প ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে রেলসেবার স্থিতিশীলতা, নির্ভরযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াবে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রেলমুখী পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে, বিশেষ করে পর্যটন ও মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। অগ্রাধিকারভিত্তিক এই বিনিয়োগ কক্সবাজার অঞ্চলের অনাবিষ্কৃত এলাকাগুলোতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবহন ও ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

ট্রান্স-এশিয়া রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোর বর্তমানে দেশের মোট যাত্রী পরিবহনের প্রায় ৩২ শতাংশ এবং মালবাহী পরিবহনের ৫৫ শতাংশ বহন করছে। ফলে এই করিডোরে উন্নত রেল অবকাঠামো গড়ে তোলা দেশের অর্থনৈতিক সংহতি, লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের আওতায় রেলপথ উঁচুকরণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন, ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তিনটি স্টেশন উন্নয়ন করে যাত্রীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ব্যবহারবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যেখানে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুযোগও থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তাকারী একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য দেশ ৬৯টি, যার মধ্যে ৫০টি এ অঞ্চলের।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনে এডিবির ৬৮৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণ

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

 

চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার রেললাইন উন্নয়ন ও নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারকে ৬৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ লক্ষ্যে আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

এডিবির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় ৩৫ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়নের পাশাপাশি ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাইপাস রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এর ফলে চট্টগ্রাম স্টেশনে না থেমেই ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরে নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা আঞ্চলিক পরিবহন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং বলেন, এই প্রকল্প ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে রেলসেবার স্থিতিশীলতা, নির্ভরযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াবে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রেলমুখী পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে, বিশেষ করে পর্যটন ও মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। অগ্রাধিকারভিত্তিক এই বিনিয়োগ কক্সবাজার অঞ্চলের অনাবিষ্কৃত এলাকাগুলোতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবহন ও ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

ট্রান্স-এশিয়া রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোর বর্তমানে দেশের মোট যাত্রী পরিবহনের প্রায় ৩২ শতাংশ এবং মালবাহী পরিবহনের ৫৫ শতাংশ বহন করছে। ফলে এই করিডোরে উন্নত রেল অবকাঠামো গড়ে তোলা দেশের অর্থনৈতিক সংহতি, লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের আওতায় রেলপথ উঁচুকরণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন, ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তিনটি স্টেশন উন্নয়ন করে যাত্রীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ব্যবহারবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যেখানে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুযোগও থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তাকারী একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য দেশ ৬৯টি, যার মধ্যে ৫০টি এ অঞ্চলের।