
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কাটগড় ধুমপাড়া এলাকায় একটি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবন সামনের আরেকটি আবাসিক ভবনের ওপর হেলে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিডিএর কোনো ধরনের অনুমোদন বা নকশা ছাড়াই নির্মিত এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির কারণে চরম প্রাণঝুঁকিতে রয়েছেন আশপাশের একাধিক পরিবার ও ভাড়াটিয়ারা। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও উল্টো সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পতেঙ্গার ধুমপাড়া ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের ওমর ফারুক ভিলা নামে এই ভবনটি দীর্ঘদিন আগে একটি মুরগির খামার ছিল। পরবর্তী সময়ে মালিকপক্ষ খামারটি ভেঙে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু ভবনটি তোলার সময় সিডিএ’র কোনো নিয়ম বা প্ল্যান পাস মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং এর সামনের অংশ পাশের একটি ভবনের ওপর দুই থেকে তিন ফুট হেলে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা জাহানারা বেগম সিডিএ বরাবর দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি বৈধভাবে জমি খরিদ করে ১২৮৭/৭ নম্বর দাগে বাড়ি করে দীঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু প্রতিবেশী মোঃ রসিদ মুরগির খামার ভেঙে অবৈধভাবে এই দোতলা বাড়ি (ওমর ফারুক ভিলা) নামে তৈরি করে তা বিক্রি করে মোজাহের নামে এক ব্যক্তির কাছ, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও সমানে ভবনে সাথে হেলে পড়েছে, ফলে জাহানারা বেগমের ভবনটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে বাড়ির মালিক ও প্রভাবশালীরা তাদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।
এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা দিদার আলম আমিরুল আমিন ও জাহানারা বেগম পৃথকভাবে ভবনটির বিরুদ্ধে সিডিএ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে, এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ ভবন নির্মাণের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সরেজমিন ফুটেজ ধারণ করতে গেলে প্রতিবেদককে নানাভাবে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া হয়। বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে কাজের কৈফিয়ত তলব করা হয়। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট ‘০১৮২৯৭৭৮৭৭৭’ নম্বর থেকে ইকবাল পরিচয়ে এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে ফোন করেন এবং কেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে—তার ব্যাখ্যা চেয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অবৈধ ও হেলে পড়া ভবনটি অপসারণ করা সম্ভব নয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সিডিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


























