ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সেনবাগে অস্ত্র-গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার, পরিবারের দাবি ‘ষড়যন্ত্র’

মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সেনবাগে অস্ত্রসদৃশ একটি রিভলবার, একটি বুলেট ও দুটি চাকুসহ মো. জাবেদ হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বসতঘর থেকে জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেন পূর্ব বিষ্ণুপুর গ্রামের কালা মিয়ার বাড়ির মো. সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে। তার মায়ের নাম বিবি মরিয়ম।
সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জাবেদ হোসেনের বসতঘর তল্লাশি করে একটি অস্ত্রসদৃশ রিভলবার, একটি বুলেট ও দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়।
পরে উদ্ধার করা আলামত জব্দ করে জাবেদকে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্রসদৃশ রিভলবার ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় জাবেদ হোসেনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
সেনবাগ থানার ওসি আব্দুর রহিম সরকার বলেন, এলাকায় অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তবে গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেনের পরিবারের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ এবং একটি পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। জাবেদ সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর পুরোনো জরাজীর্ণ ঘরের পাশে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, ঘর নির্মাণের সময় টিনের সঙ্গে লেগে জাবেদের পায়ে গুরুতর কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাবেদ চিকিৎসার জন্য বাড়ির বাইরে থাকার সময় বাড়িটি খালি ছিল এবং ঘরের দরজা-জানালাও পুরোপুরি সুরক্ষিত ছিল না। এ সুযোগে কেউ ঘরে প্রবেশ করে জাবেদের বিছানার নিচে অস্ত্রসদৃশ রিভলবার, বুলেট ও চাকু রেখে থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ।
পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তীতে ওই ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে জাবেদকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাবেদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এলাকায় তিনি শান্ত, ভদ্র ও সামাজিকভাবে পরিচিত একজন যুবক হিসেবে পরিচিত। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল না।
নবীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান রাজু বলেন, “জাবেদ অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও পরিমার্জিত ছেলে। প্রায় এক মাস আগে সে প্রবাস থেকে দেশে এসেছে। এমন একটি ঘটনায় তার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”
পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রতি বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে পরিবার। তাদের দাবি, তদন্তে জাবেদ নিরপরাধ প্রমাণিত হলে তার পাশে দাঁড়ানো হোক।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগে অস্ত্র-গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার, পরিবারের দাবি ‘ষড়যন্ত্র’

সেনবাগে অস্ত্র-গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার, পরিবারের দাবি ‘ষড়যন্ত্র’

আপডেট সময় : ০৫:২০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সেনবাগে অস্ত্রসদৃশ একটি রিভলবার, একটি বুলেট ও দুটি চাকুসহ মো. জাবেদ হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বসতঘর থেকে জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেন পূর্ব বিষ্ণুপুর গ্রামের কালা মিয়ার বাড়ির মো. সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে। তার মায়ের নাম বিবি মরিয়ম।
সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জাবেদ হোসেনের বসতঘর তল্লাশি করে একটি অস্ত্রসদৃশ রিভলবার, একটি বুলেট ও দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়।
পরে উদ্ধার করা আলামত জব্দ করে জাবেদকে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্রসদৃশ রিভলবার ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় জাবেদ হোসেনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
সেনবাগ থানার ওসি আব্দুর রহিম সরকার বলেন, এলাকায় অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তবে গ্রেপ্তার জাবেদ হোসেনের পরিবারের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ এবং একটি পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। জাবেদ সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর পুরোনো জরাজীর্ণ ঘরের পাশে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, ঘর নির্মাণের সময় টিনের সঙ্গে লেগে জাবেদের পায়ে গুরুতর কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাবেদ চিকিৎসার জন্য বাড়ির বাইরে থাকার সময় বাড়িটি খালি ছিল এবং ঘরের দরজা-জানালাও পুরোপুরি সুরক্ষিত ছিল না। এ সুযোগে কেউ ঘরে প্রবেশ করে জাবেদের বিছানার নিচে অস্ত্রসদৃশ রিভলবার, বুলেট ও চাকু রেখে থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ।
পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তীতে ওই ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে জাবেদকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাবেদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এলাকায় তিনি শান্ত, ভদ্র ও সামাজিকভাবে পরিচিত একজন যুবক হিসেবে পরিচিত। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল না।
নবীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান রাজু বলেন, “জাবেদ অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও পরিমার্জিত ছেলে। প্রায় এক মাস আগে সে প্রবাস থেকে দেশে এসেছে। এমন একটি ঘটনায় তার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”
পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রতি বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে পরিবার। তাদের দাবি, তদন্তে জাবেদ নিরপরাধ প্রমাণিত হলে তার পাশে দাঁড়ানো হোক।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।