
বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যুতে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা এখন নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দলের সাম্প্রতিক মনোনয়ন ঘোষণার পর নোমানের অনুসারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় চট্টগ্রাম–১০ (খুলশী, হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং) আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ এই আসনে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিলেন প্রয়াত নোমানের ছেলে, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী পাঠ শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমানকে।
চট্টগ্রাম বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, সাঈদ আল নোমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসনকে কেন্দ্র করে নিয়মিত জনসংযোগ, সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। ফলে স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী তাঁকেই নোমানের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখছিলেন।
কিন্তু মনোনয়ন তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় সমর্থকরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নেতা বলেন, “নোমান সাহেব এই এলাকার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর ছেলে সাঈদ আল নোমানকে প্রার্থী হিসেবে দেখার প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু সেই আশা অপূর্ণ রইল।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যু চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বের উদ্ভবের প্রক্রিয়া চলছিল, কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রত্যাশার সঙ্গে না মেলায় মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
একজন সিনিয়র নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “বিএনপি হয়তো অভিজ্ঞ নেতাদের প্রাধান্য দিতে চায়, তবে স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সংগঠনের বাস্তব চিত্রকেও উপেক্ষা করা ঠিক নয়।”
দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংগঠনের ঐক্য বজায় রাখতে সচেষ্ট। এখন দেখার বিষয়, নোমানের অনুগত নেতাকর্মীরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে মাঠে থাকবেন, নাকি ভিন্ন কোনো পথ বেছে নেবেন তা সময়ই নির্ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, আবদুল্লাহ আল নোমান ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে চট্টগ্রাম–৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম–১০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি বিএনপি সরকারের সময়ে মৎস্য ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিজস্ব/নিউজ টুডে 

























