ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

ভেনেজুয়েলা সংকটে ট্রাম্পের দ্বিমুখী সংকেত: সমাধানে সংলাপ, প্রস্তুত সামরিক পদক্ষেপেও

ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনা কমাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাতিল করছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত উপকূলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাদুরোর অভিযোগ এসব সামরিক তৎপরতার লক্ষ্য তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি জোরদার করা।

সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “না, আমি কোনো সম্ভাবনাই বাদ দিচ্ছি না।” আর মাদুরোর সঙ্গে সম্ভাব্য আলাপ নিয়ে তার মন্তব্য, “হ্যাঁ, কথা বলতে পারি। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি।” সংঘাত এড়াতে মাদুরো কোনো উদ্যোগ বা প্রস্তাব দিলে তা বিবেচনায় নিতে ট্রাম্প আগ্রহী বলেও জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব মন্তব্য ইঙ্গিত করে যে আকর্ষণীয় কোনো সমাধান পাওয়া গেলে তিনি উত্তেজনা প্রশমনে আগ্রহী হতে পারেন। তবে একই সঙ্গে তার প্রশাসন প্রয়োজন হলে সংঘাত আরও বাড়ানোর দরজাও খোলা রেখেছে।

এদিকে কলম্বিয়ায় “কোকেন উৎপাদন কেন্দ্র” ধ্বংসের ইচ্ছা ব্যক্ত করলেও সেখানকার ভেতরে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেননি ট্রাম্প।

আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি হামলা চালিয়েছে, যাতে ৮০ জনের মতো নিহত হয়েছেন। এসব নৌযান আদৌ মাদকবাহী ছিল কি না বা যুক্তরাষ্ট্রমুখী ছিল কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকি এসব সামরিক অভিযানের আইনি ভিত্তি নিয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

ভেনেজুয়েলা সংকটে ট্রাম্পের দ্বিমুখী সংকেত: সমাধানে সংলাপ, প্রস্তুত সামরিক পদক্ষেপেও

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনা কমাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাতিল করছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত উপকূলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাদুরোর অভিযোগ এসব সামরিক তৎপরতার লক্ষ্য তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি জোরদার করা।

সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “না, আমি কোনো সম্ভাবনাই বাদ দিচ্ছি না।” আর মাদুরোর সঙ্গে সম্ভাব্য আলাপ নিয়ে তার মন্তব্য, “হ্যাঁ, কথা বলতে পারি। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি।” সংঘাত এড়াতে মাদুরো কোনো উদ্যোগ বা প্রস্তাব দিলে তা বিবেচনায় নিতে ট্রাম্প আগ্রহী বলেও জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব মন্তব্য ইঙ্গিত করে যে আকর্ষণীয় কোনো সমাধান পাওয়া গেলে তিনি উত্তেজনা প্রশমনে আগ্রহী হতে পারেন। তবে একই সঙ্গে তার প্রশাসন প্রয়োজন হলে সংঘাত আরও বাড়ানোর দরজাও খোলা রেখেছে।

এদিকে কলম্বিয়ায় “কোকেন উৎপাদন কেন্দ্র” ধ্বংসের ইচ্ছা ব্যক্ত করলেও সেখানকার ভেতরে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেননি ট্রাম্প।

আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি হামলা চালিয়েছে, যাতে ৮০ জনের মতো নিহত হয়েছেন। এসব নৌযান আদৌ মাদকবাহী ছিল কি না বা যুক্তরাষ্ট্রমুখী ছিল কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকি এসব সামরিক অভিযানের আইনি ভিত্তি নিয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।