ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

ভিয়েতনামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১, নিখোঁজ ৯

টানা বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৯ জন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বন্যায় অন্তত ৫২ হাজার ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে এবং প্রায় পাঁচ লাখ পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

গত তিন দিনে কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১.৫ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বন্যার সর্বোচ্চ ৫.২ মিটারের রেকর্ডও ভেঙে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় শহর হোই আন ও ন্যা ট্রাং, পাশাপাশি মধ্যাঞ্চলের কফি উৎপাদন এলাকা—যেখানে আগের ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার আগেই কৃষকরা নতুনভাবে বিপর্যয়ে পড়েছেন।

চলতি বছর একের পর এক টাইফুন—কালমেয়গি ও বুয়ালয়—ভিয়েতনামে ব্যাপক ক্ষতি ডেকে এনেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটির ক্ষতি ছাড়িয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে—মানুষ ঘরের ছাদে আশ্রয় নিয়েছে, ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লাম ডং প্রদেশের এক ঝুলন্ত সেতু তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে ছিঁড়ে পড়ছে। ভূমিধসে প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতির কারণে জনপ্রিয় পর্যটন নগরী দা লাতে যাওয়ার প্রধান পথ মিমোসা পাসের একটি অংশ ধসে গভীর খাদে পড়ে গেছে, ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। অল্পের জন্য একটি বাস বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

ভিয়েতনামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১, নিখোঁজ ৯

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

টানা বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৯ জন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বন্যায় অন্তত ৫২ হাজার ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে এবং প্রায় পাঁচ লাখ পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

গত তিন দিনে কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১.৫ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বন্যার সর্বোচ্চ ৫.২ মিটারের রেকর্ডও ভেঙে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় শহর হোই আন ও ন্যা ট্রাং, পাশাপাশি মধ্যাঞ্চলের কফি উৎপাদন এলাকা—যেখানে আগের ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার আগেই কৃষকরা নতুনভাবে বিপর্যয়ে পড়েছেন।

চলতি বছর একের পর এক টাইফুন—কালমেয়গি ও বুয়ালয়—ভিয়েতনামে ব্যাপক ক্ষতি ডেকে এনেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটির ক্ষতি ছাড়িয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে—মানুষ ঘরের ছাদে আশ্রয় নিয়েছে, ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লাম ডং প্রদেশের এক ঝুলন্ত সেতু তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে ছিঁড়ে পড়ছে। ভূমিধসে প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতির কারণে জনপ্রিয় পর্যটন নগরী দা লাতে যাওয়ার প্রধান পথ মিমোসা পাসের একটি অংশ ধসে গভীর খাদে পড়ে গেছে, ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। অল্পের জন্য একটি বাস বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।