ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

আবু বকরের অবস্থা দেখে আবেগে ভেঙে পড়লেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ভয়াবহ হামলার শিকার হন ১৬ বছরের মাদরাসা শিক্ষার্থী আবু বকর। একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই ছেলেটি এখন নিজ বাড়িতে নিঃশব্দ, বাকহীন ও অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন। আবু বকর বর্তমানে দেবীদ্বার উপজেলার শাকতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন। তাঁর চোখ, কান ও স্পর্শের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রায় নেই, আর এক সময়ের হাসিখুশি জীবন এখন নিঃশব্দের বন্দি।

গত শনিবার আবু বকরের বাড়িতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। আবু বকরের এই অবস্থায় চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে তিনি কেঁদে ফেলেন। আবু বকের সঙ্গে কথা বলার সময় হাসনাত আব্দুল্লাহর চোখ ভিজে যায়, দুই চোখের কোণ বেয়ে পানি ঝরে। একসময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি আবু বকরের কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।

এই সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ আবু বকরের উদ্দেশে বলেন, “তুমি যেকোনো সময়, শুধু এই নির্বাচন নয়, যেকোনো সময় আমাকে পাবে। তুমি আমার ভাই, আমার তো ভাই নেই। আজ আমরা এখানে তোমাদের জন্য এসেছি। তোমাদের জন্য আমরা অনেক কিছু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।”

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছোট আলমপুর থেকে দেবীদ্বার কলেজ রোড হয়ে নিউ মার্কেট স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত একটি বিশাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র মিছিল বের হয়। মিছিলকে প্রতিহত করতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। মিছিলের অগ্রভাগে থাকা আবু বকরকে একাধিক ব্যক্তি একসাথে ঘিরে ধরে কুপিয়ে আহত করে মৃত ভেবে ফেলে রাখে। মাথায় মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত আবু বকরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

অপরাধ গুরুতর হওয়ায় তাকে পরে ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ এবং ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথার খুলি খুলে একাধিকবার অপারেশন করা হয় এবং অবস্থার ক্রিটিক্যাল হওয়ায় দুইবার আইসিইউতে রাখা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর অবস্থা কিছুটা উন্নত হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমানে আবু বকর নিজ গ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার কুমিল্লা দেবীদ্বারের রাজামেহার ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সময় তিনি আবেগে অশ্রুসিক্ত হন। স্থানীয় জনগণ ও শহীদ পরিবাররা নির্বাচনী খরচে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

আবু বকরের অবস্থা দেখে আবেগে ভেঙে পড়লেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

কুমিল্লার দেবীদ্বারে গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ভয়াবহ হামলার শিকার হন ১৬ বছরের মাদরাসা শিক্ষার্থী আবু বকর। একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই ছেলেটি এখন নিজ বাড়িতে নিঃশব্দ, বাকহীন ও অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন। আবু বকর বর্তমানে দেবীদ্বার উপজেলার শাকতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন। তাঁর চোখ, কান ও স্পর্শের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রায় নেই, আর এক সময়ের হাসিখুশি জীবন এখন নিঃশব্দের বন্দি।

গত শনিবার আবু বকরের বাড়িতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। আবু বকরের এই অবস্থায় চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে তিনি কেঁদে ফেলেন। আবু বকের সঙ্গে কথা বলার সময় হাসনাত আব্দুল্লাহর চোখ ভিজে যায়, দুই চোখের কোণ বেয়ে পানি ঝরে। একসময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি আবু বকরের কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।

এই সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ আবু বকরের উদ্দেশে বলেন, “তুমি যেকোনো সময়, শুধু এই নির্বাচন নয়, যেকোনো সময় আমাকে পাবে। তুমি আমার ভাই, আমার তো ভাই নেই। আজ আমরা এখানে তোমাদের জন্য এসেছি। তোমাদের জন্য আমরা অনেক কিছু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।”

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছোট আলমপুর থেকে দেবীদ্বার কলেজ রোড হয়ে নিউ মার্কেট স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত একটি বিশাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র মিছিল বের হয়। মিছিলকে প্রতিহত করতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। মিছিলের অগ্রভাগে থাকা আবু বকরকে একাধিক ব্যক্তি একসাথে ঘিরে ধরে কুপিয়ে আহত করে মৃত ভেবে ফেলে রাখে। মাথায় মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত আবু বকরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

অপরাধ গুরুতর হওয়ায় তাকে পরে ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ এবং ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথার খুলি খুলে একাধিকবার অপারেশন করা হয় এবং অবস্থার ক্রিটিক্যাল হওয়ায় দুইবার আইসিইউতে রাখা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর অবস্থা কিছুটা উন্নত হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমানে আবু বকর নিজ গ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার কুমিল্লা দেবীদ্বারের রাজামেহার ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সময় তিনি আবেগে অশ্রুসিক্ত হন। স্থানীয় জনগণ ও শহীদ পরিবাররা নির্বাচনী খরচে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।