ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা জরিপকে ‘শহীদদের প্রতি অবমাননা’: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও গণহত্যার অভিযোগ নথিভুক্ত থাকা অবস্থায় দলটিকে নিয়ে জনপ্রিয়তা জরিপ চালানোকে ‘অনৈতিক’ ও ‘অন্যায্য’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি জরিপটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের জরিপ কোনো নিরপেক্ষ গবেষণার আওতায় পড়ে না; বরং ধীরে ধীরে একটি অপরাধী রাজনৈতিক ইতিহাসকে আড়াল করার কৌশল হিসেবেই দেখা যায়। তার মতে, দলটির পূর্বের দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় জবাবদিহির দাবিই তোলে, পুনর্বাসনের নয়।

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির আমলে নয়, বরং টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগই দেশে ভয়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলে। রাজনৈতিক সমাবেশে হামলা, হতাহত, সড়ক দখল, আগ্নেয়াস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার—এসব ছিল সেই সময়কার স্বাভাবিক ঘটনা। এতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

শফিকুল আলম বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কৌশল হিসেবে জনগণের ভয়কে ব্যবহার করেছিল। গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমন করতে পারলে সরকার আরও দুই দশক ক্ষমতায় থাকতে পারত—এমন বিশ্লেষকদের মতামতও তিনি তুলে ধরেন। কিন্তু নতুন প্রজন্ম ভয়কে উপেক্ষা করে রাস্তায় নামায় সরকার বুঝতে বাধ্য হয়—গণহত্যা করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘জনপ্রিয়তা জরিপ কি ইতিহাস মুছে দিতে পারে? আজ ১০ বা ২০ শতাংশ সমর্থনের হিসাব কি আদৌ অর্থবহ?’’ তার ভাষায়, ফাইয়াজসহ আন্দোলনে নিহত তরুণদের স্মৃতি যখন এখনও তাজা, তখন এই ধরনের জরিপ শহীদদের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জরিপের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তার আগে চাই জবাবদিহি—আওয়ামী লীগকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে, অতীতের সত্য খোলামেলা স্বীকার করতে হবে এবং কোনো অজুহাত ছাড়া সব ঘটনা প্রকাশ করতে হবে। জবাবদিহি ছাড়া রাজনৈতিক স্বাভাবিকীকরণ সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা জরিপকে ‘শহীদদের প্রতি অবমাননা’: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

আপডেট সময় : ০৭:১৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও গণহত্যার অভিযোগ নথিভুক্ত থাকা অবস্থায় দলটিকে নিয়ে জনপ্রিয়তা জরিপ চালানোকে ‘অনৈতিক’ ও ‘অন্যায্য’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি জরিপটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের জরিপ কোনো নিরপেক্ষ গবেষণার আওতায় পড়ে না; বরং ধীরে ধীরে একটি অপরাধী রাজনৈতিক ইতিহাসকে আড়াল করার কৌশল হিসেবেই দেখা যায়। তার মতে, দলটির পূর্বের দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় জবাবদিহির দাবিই তোলে, পুনর্বাসনের নয়।

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির আমলে নয়, বরং টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগই দেশে ভয়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলে। রাজনৈতিক সমাবেশে হামলা, হতাহত, সড়ক দখল, আগ্নেয়াস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার—এসব ছিল সেই সময়কার স্বাভাবিক ঘটনা। এতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

শফিকুল আলম বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কৌশল হিসেবে জনগণের ভয়কে ব্যবহার করেছিল। গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমন করতে পারলে সরকার আরও দুই দশক ক্ষমতায় থাকতে পারত—এমন বিশ্লেষকদের মতামতও তিনি তুলে ধরেন। কিন্তু নতুন প্রজন্ম ভয়কে উপেক্ষা করে রাস্তায় নামায় সরকার বুঝতে বাধ্য হয়—গণহত্যা করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘জনপ্রিয়তা জরিপ কি ইতিহাস মুছে দিতে পারে? আজ ১০ বা ২০ শতাংশ সমর্থনের হিসাব কি আদৌ অর্থবহ?’’ তার ভাষায়, ফাইয়াজসহ আন্দোলনে নিহত তরুণদের স্মৃতি যখন এখনও তাজা, তখন এই ধরনের জরিপ শহীদদের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জরিপের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তার আগে চাই জবাবদিহি—আওয়ামী লীগকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে, অতীতের সত্য খোলামেলা স্বীকার করতে হবে এবং কোনো অজুহাত ছাড়া সব ঘটনা প্রকাশ করতে হবে। জবাবদিহি ছাড়া রাজনৈতিক স্বাভাবিকীকরণ সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।