ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দেলওয়াহাব সাইদানি এই মন্তব্য করেন।

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়— ১৯৬০ সালের বিক্ষোভ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বিক্ষোভে প্রাণ হারানো শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি বলেন, শার্ল দ্য গোলের সীমিত স্বায়ত্তশাসনের ‘থার্ড ওয়ে’ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আলজেরিয়ানদের বিক্ষোভ স্বাধীনতা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফরাসি বাহিনীর দমন-পীড়ন আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলজেরিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে শক্তিশালী করে। ১১ ডিসেম্বরের সেই বিক্ষোভ জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের স্বীকৃতি এবং ফ্রান্সকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার পথ প্রস্তুত করে। শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে।

তিনি বলেন, বর্তমান আলজেরিয়া উন্নয়ন, উদ্ভাবন, যুবশক্তির বিকাশ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে আলজেরিয়ার আন্দোলনের মিল তুলে ধরে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৯৬০ সালের ১১ ডিসেম্বরের বিক্ষোভ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী আলজেরিয়ান বীরদের স্মরণ করা হয়।
আলজেরিয়া দূতাবাস জানায়, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার বন্ধুত্ব আরও গভীর করতে তাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া

আপডেট সময় : ০৫:৩১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দেলওয়াহাব সাইদানি এই মন্তব্য করেন।

আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়— ১৯৬০ সালের বিক্ষোভ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বিক্ষোভে প্রাণ হারানো শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি বলেন, শার্ল দ্য গোলের সীমিত স্বায়ত্তশাসনের ‘থার্ড ওয়ে’ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আলজেরিয়ানদের বিক্ষোভ স্বাধীনতা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফরাসি বাহিনীর দমন-পীড়ন আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলজেরিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে শক্তিশালী করে। ১১ ডিসেম্বরের সেই বিক্ষোভ জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের স্বীকৃতি এবং ফ্রান্সকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার পথ প্রস্তুত করে। শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে।

তিনি বলেন, বর্তমান আলজেরিয়া উন্নয়ন, উদ্ভাবন, যুবশক্তির বিকাশ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে আলজেরিয়ার আন্দোলনের মিল তুলে ধরে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৯৬০ সালের ১১ ডিসেম্বরের বিক্ষোভ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী আলজেরিয়ান বীরদের স্মরণ করা হয়।
আলজেরিয়া দূতাবাস জানায়, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার বন্ধুত্ব আরও গভীর করতে তাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।