ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন আতঙ্ক: নির্বাচনের আগে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ

চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের ত্রাস, ১০টি হত্যাসহ ১৯টি মামলার আসামি ‘ছোট সাজ্জাদ’ ও তার স্ত্রী তামান্নার জামিন প্রাপ্তিতে জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত মার্চে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে উচ্চ আদালত থেকে চারটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় তারা জামিন পান। যদিও বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বর্তমানে অন্যান্য মামলায় তাদের জামিন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থমকে গেছে।

আইনের ফাঁকফোকরে পার পাচ্ছে অপরাধীরা
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা নানা কৌশলে কারামুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে আদালতের তথ্যে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“যে সময় ওয়ানটেড অপরাধীদের কঠোর নজরদারিতে রাখার কথা, তখন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তারা মুক্তি পাচ্ছে। এটি রাষ্ট্র ও প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা।”

রাষ্ট্রপক্ষের দায় ও আইনজীবীদের অভিমত
সন্ত্রাসীদের জামিন ঠেকাতে রাষ্ট্রপক্ষকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার জানান, নিম্ন আদালতের জামিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এবং হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ সরকারের রয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব।

অন্যদিকে, মহানগর পিপি মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া দাবি করেন, তারা বিষয়টি নিয়ে সচেতন এবং নির্বাচন সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা শঙ্কা
গত এক বছরে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছে অনেক চিহ্নিত অপরাধী। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, “যারা জামিনে বের হয়েছে, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। নতুন করে কোনো অপরাধে জড়ালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা এড়াতে শুধু পুলিশি নজরদারি যথেষ্ট নয়; বরং বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের অধিকতর সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন আতঙ্ক: নির্বাচনের আগে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ১২:০৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের ত্রাস, ১০টি হত্যাসহ ১৯টি মামলার আসামি ‘ছোট সাজ্জাদ’ ও তার স্ত্রী তামান্নার জামিন প্রাপ্তিতে জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত মার্চে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে উচ্চ আদালত থেকে চারটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় তারা জামিন পান। যদিও বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বর্তমানে অন্যান্য মামলায় তাদের জামিন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থমকে গেছে।

আইনের ফাঁকফোকরে পার পাচ্ছে অপরাধীরা
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা নানা কৌশলে কারামুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে আদালতের তথ্যে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“যে সময় ওয়ানটেড অপরাধীদের কঠোর নজরদারিতে রাখার কথা, তখন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তারা মুক্তি পাচ্ছে। এটি রাষ্ট্র ও প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা।”

রাষ্ট্রপক্ষের দায় ও আইনজীবীদের অভিমত
সন্ত্রাসীদের জামিন ঠেকাতে রাষ্ট্রপক্ষকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার জানান, নিম্ন আদালতের জামিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এবং হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ সরকারের রয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব।

অন্যদিকে, মহানগর পিপি মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া দাবি করেন, তারা বিষয়টি নিয়ে সচেতন এবং নির্বাচন সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা শঙ্কা
গত এক বছরে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছে অনেক চিহ্নিত অপরাধী। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, “যারা জামিনে বের হয়েছে, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। নতুন করে কোনো অপরাধে জড়ালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা এড়াতে শুধু পুলিশি নজরদারি যথেষ্ট নয়; বরং বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের অধিকতর সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।