
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগের সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সয়লাব হয়ে গেছে গুজব ও অপতথ্য। মূলত ফেসবুকের ভিউ বাড়ানো এবং মনিটাইজেশনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যেই একটি বিশেষ চক্র এসব সংবেদনশীল মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি চ্যানেল ২৪-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানের মূল তথ্য
নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সক্রিয় ৭০টি ফেসবুক প্রোফাইল, গ্রুপ ও পেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে:
মৃত্যুর গুজব: ৭০টি কন্টেন্টের মধ্যে ৩৮টিতেই সরাসরি খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।
বিভ্রান্তিকর তথ্য: ২২টিতে শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি এবং ৬টিতে বিদেশে পাঠানোর ভুয়া দাবি করা হয়েছে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার: ৪টি পোস্টে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মৃত্যুর খবর গোপন রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ছবির অপব্যবহার ও স্বজনদের ক্ষোভ
গুজব ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা অন্য ব্যক্তির পুরনো ছবি। যেমন:একটি পোস্টে সামসাদ বেগম নামে এক নারীর ৪ বছর আগের হাসপাতালের ছবিকে খালেদা জিয়ার ছবি বলে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামসাদ বেগমের মেয়ে মৌ সামারা বলেন,
“আমার মা ২০২১ সালে মারা গেছেন। মায়ের ছবি এভাবে অপব্যবহার হতে দেখে সন্তান হিসেবে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”
নেপথ্যে ‘মনিটাইজেশন’ ও অস্থিরতা তৈরির ছক
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার-এর মতে, দ্রুত ফলোয়ার বাড়িয়ে টাকা আয় করাই এই চক্রের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, ডিজিটালি রাইট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, এসব অপতথ্যের মাধ্যমে সমাজে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য শেয়ার করার আগে: ১. তথ্যের মূল উৎস পরীক্ষা করুন। ২. অফিসিয়াল বিবৃতি বা মূলধারার গণমাধ্যমের খবরের সাথে মিলিয়ে নিন। ৩. ফ্যাক্ট-চেক সাইটগুলোর সহায়তা নিন।
প্রতিনিধির নাম 






















