ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

ইন্দোনেশিয়ার সিয়াউ দ্বীপে ভয়াবহ বন্যা প্রাণহানি ১৪, নিখোঁজ ৪

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের সিয়াউ দ্বীপে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা প্রবল বর্ষণে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, বন্যায় এখনও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারে ১৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র নুরিয়াদিন গুমেলেং জানিয়েছেন যে, বন্যায় অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বর্তমানে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। প্রধান সড়কগুলো পাথর, গাছের ডালপালা এবং ঘন কাদায় ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রাস্তা পরিষ্কার করতে বেশ কয়েকটি ভারী এক্সকেভেটর মোতায়েন করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, বন্যার তোড়ে ঘরবাড়ি হারানো অন্তত ৪৪৪ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় স্কুল ও গির্জাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

উত্তর সুলাওয়েসির গভর্নর ইউলিউস সেলভানাস এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কয়েকশ ঘরবাড়ি এবং বেশ কিছু সরকারি ভবন এই বন্যায় সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনে সুলাওয়েসি ছাড়াও জাভা, মালুকু এবং পাপুয়া দ্বীপে আরও ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস ইন্দোনেশিয়ার এই অঞ্চলে বর্ষার সর্বোচ্চ মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য যে, ইন্দোনেশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। গত নভেম্বরেও সুমাত্রায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী বন্যা ও ভূমিধসে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর দাবি, নির্বিচারে খনিজ উত্তোলন এবং গাছ কাটার ফলে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

ইন্দোনেশিয়ার সিয়াউ দ্বীপে ভয়াবহ বন্যা প্রাণহানি ১৪, নিখোঁজ ৪

আপডেট সময় : ০১:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের সিয়াউ দ্বীপে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা প্রবল বর্ষণে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, বন্যায় এখনও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারে ১৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র নুরিয়াদিন গুমেলেং জানিয়েছেন যে, বন্যায় অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বর্তমানে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। প্রধান সড়কগুলো পাথর, গাছের ডালপালা এবং ঘন কাদায় ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রাস্তা পরিষ্কার করতে বেশ কয়েকটি ভারী এক্সকেভেটর মোতায়েন করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, বন্যার তোড়ে ঘরবাড়ি হারানো অন্তত ৪৪৪ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় স্কুল ও গির্জাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

উত্তর সুলাওয়েসির গভর্নর ইউলিউস সেলভানাস এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কয়েকশ ঘরবাড়ি এবং বেশ কিছু সরকারি ভবন এই বন্যায় সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনে সুলাওয়েসি ছাড়াও জাভা, মালুকু এবং পাপুয়া দ্বীপে আরও ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস ইন্দোনেশিয়ার এই অঞ্চলে বর্ষার সর্বোচ্চ মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য যে, ইন্দোনেশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। গত নভেম্বরেও সুমাত্রায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী বন্যা ও ভূমিধসে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর দাবি, নির্বিচারে খনিজ উত্তোলন এবং গাছ কাটার ফলে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে।