ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে দ্বিতীয় পর্বের ভোট চলছে

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর পরিচালনায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তিন ধাপের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। রোববার সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ভোট হয়, যেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ—যা আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক কম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তাকে বৈধতা দেওয়া। প্রথম ধাপে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনে ভোট হয়, যার মধ্যে সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ৯০টি আসনে জয় পায়।

২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের অনেক এলাকায় ভোট হচ্ছে না। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ৫৬টিতে ভোট হবে না, আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পুরোপুরি নির্বাচনের বাইরে থাকছে।

জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই নির্বাচন অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন সমালোচনা করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসসহ প্রায় ৪০টি দল নিষিদ্ধ, আর সু চি ও দলের বহু নেতা কারাবন্দি বা নির্বাসনে রয়েছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, চীনের সমর্থন পাওয়া জান্তা সরকার এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের বৈধতা জোরদার করে ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করতে চাইছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের জানেআলী হাট বাজার: অপরাধীদের অভয়ারণ্য, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে দ্বিতীয় পর্বের ভোট চলছে

আপডেট সময় : ১২:০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর পরিচালনায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তিন ধাপের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। রোববার সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ভোট হয়, যেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ—যা আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক কম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তাকে বৈধতা দেওয়া। প্রথম ধাপে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনে ভোট হয়, যার মধ্যে সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ৯০টি আসনে জয় পায়।

২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের অনেক এলাকায় ভোট হচ্ছে না। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ৫৬টিতে ভোট হবে না, আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পুরোপুরি নির্বাচনের বাইরে থাকছে।

জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই নির্বাচন অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন সমালোচনা করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসসহ প্রায় ৪০টি দল নিষিদ্ধ, আর সু চি ও দলের বহু নেতা কারাবন্দি বা নির্বাসনে রয়েছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, চীনের সমর্থন পাওয়া জান্তা সরকার এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের বৈধতা জোরদার করে ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করতে চাইছে।