ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের বড় সিদ্ধান্ত: বহাল থাকল আগের আইন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে এবং বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনি বিধান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের মূলে রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা এবং উচ্চ আদালতের একটি রায়। আইন ও আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রথম বিয়ের অস্তিত্ব থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০২১ সালে আইনজীবী ইশরাত জাহান বহুবিবাহ সংক্রান্ত এই ধারাটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ইসলামে সমান সুবিচারের কথা থাকলেও আইনে স্বামী বা আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। তবে শুনানি শেষে উচ্চ আদালত রুল খারিজ করে দেন এবং জানান, এই ধারাটি বৈষম্যমূলক নয় এবং এটি নারীদের মৌলিক অধিকার খর্ব করে না। ফলে ১৯৬১ সালের আইনের ধারাটিই বর্তমানে বহাল রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বা সম্মতি কেবল থাকলেই হবে না, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

  • চেয়ারম্যানের কাছে নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে।

  • আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং বর্তমান স্ত্রীর সম্মতি আছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে।

  • সালিশি কাউন্সিল যদি প্রস্তাবিত বিয়েটি ‘প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত’ মনে করে, তবেই অনুমতি দেবে।

  • এই অনুমতি ছাড়া করা দ্বিতীয় বিয়ে আইনিভাবে নিবন্ধনযোগ্য নয়।

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে: ১. বর্তমান স্ত্রীর দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। ২. অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা (বা উভয় দণ্ড) হতে পারে।

আইনজীবী ইশরাত জাহান স্পষ্ট করেছেন যে, আইনত শুধু প্রথম স্ত্রীর অনুমতিই যথেষ্ট নয়, বরং সালিশি কাউন্সিলের অনুমতির বিধানটিই মুখ্য। উচ্চ আদালত আগের সেই আইনি অবস্থানই বহাল রেখেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের বড় সিদ্ধান্ত: বহাল থাকল আগের আইন

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে এবং বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনি বিধান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের মূলে রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা এবং উচ্চ আদালতের একটি রায়। আইন ও আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রথম বিয়ের অস্তিত্ব থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০২১ সালে আইনজীবী ইশরাত জাহান বহুবিবাহ সংক্রান্ত এই ধারাটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ইসলামে সমান সুবিচারের কথা থাকলেও আইনে স্বামী বা আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। তবে শুনানি শেষে উচ্চ আদালত রুল খারিজ করে দেন এবং জানান, এই ধারাটি বৈষম্যমূলক নয় এবং এটি নারীদের মৌলিক অধিকার খর্ব করে না। ফলে ১৯৬১ সালের আইনের ধারাটিই বর্তমানে বহাল রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বা সম্মতি কেবল থাকলেই হবে না, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

  • চেয়ারম্যানের কাছে নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে।

  • আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং বর্তমান স্ত্রীর সম্মতি আছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে।

  • সালিশি কাউন্সিল যদি প্রস্তাবিত বিয়েটি ‘প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত’ মনে করে, তবেই অনুমতি দেবে।

  • এই অনুমতি ছাড়া করা দ্বিতীয় বিয়ে আইনিভাবে নিবন্ধনযোগ্য নয়।

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে: ১. বর্তমান স্ত্রীর দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। ২. অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা (বা উভয় দণ্ড) হতে পারে।

আইনজীবী ইশরাত জাহান স্পষ্ট করেছেন যে, আইনত শুধু প্রথম স্ত্রীর অনুমতিই যথেষ্ট নয়, বরং সালিশি কাউন্সিলের অনুমতির বিধানটিই মুখ্য। উচ্চ আদালত আগের সেই আইনি অবস্থানই বহাল রেখেছে।