ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

সাভারে ৭ মাসে ৬ হত্যা, ভবঘুরে ছদ্মবেশে এক সাইকো কিলার

সাভার মডেল থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এবং সাভার প্রেসক্লাবের ঠিক পাশেই অবস্থিত পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি এখন এক বিভীষিকার নাম। গত সাত মাসে এই একই স্থানে একে একে ছয়টি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) জোড়া লাশ উদ্ধারের পর বেরিয়ে এসেছে এক রোমহর্ষক তথ্য খুনি কোনো পেশাদার অপরাধী নয়, বরং সবার চোখের সামনে থাকা এক ভবঘুরে।

গত রোববার দুপুরে পরিত্যক্ত ওই ভবনটির দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আগের খুনের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানার ধারণ করা একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, মরদেহ কাঁধে নিয়ে যাচ্ছে এক ব্যক্তি, যাকে সবাই ছদ্মবেশী ভবঘুরে হিসেবে চিনত। এর ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাট নামের ওই যুবককে আটক করা হয়।

দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি সোহেল রানা গত শুক্রবার ওই ভবনে সম্রাট ও এক নারীকে কথা বলতে দেখে একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। ভিডিওতে ওই নারী নিজের নাম সোনিয়া বলে জানান। এর ঠিক দুদিন পরই সেই নারীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। ভিডিওর কথোপকথন এবং সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটের গতিবিধি মিলিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সম্রাটই সেই খুনি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি জানান সম্রাট একজন মানসিক বিকৃত বা ‘সাইকোপ্যাথিক’ কিলার তার প্রধান লক্ষ্য ছিল অসহায় ভবঘুরেরা। গত সাত মাসে সে একই স্থানে মোট ছয়জনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ ও ক্রাইমসিন ইউনিটের চোখে ধুলো দিয়ে সে ব্যাংক কলোনী বা লালটেক এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াত।

থানা থেকে মাত্র ১০০ গজ এবং সেনাক্যাম্প ও সরকারি কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে এমন ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা স্তম্ভিত হয়ে বলছেন, যাকে প্রতিদিন শান্তভাবে বসে থাকতে বা বিড়বিড় করতে দেখা যেত, সে-ই যে এত বড় খুনি হতে পারে তা অকল্পনীয়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিহতদের সবাই ভবঘুরে শ্রেণির। কেন এমন নৃশংসতা চালানো হতো, সেই মোটিভ বা উদ্দেশ্য উদঘাটন করা এখন সবচেয়ে জরুরি। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য সোমবার সম্রাটকে আদালতে তোলা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাভারে ৭ মাসে ৬ হত্যা, ভবঘুরে ছদ্মবেশে এক সাইকো কিলার

আপডেট সময় : ১২:৪১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাভার মডেল থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এবং সাভার প্রেসক্লাবের ঠিক পাশেই অবস্থিত পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি এখন এক বিভীষিকার নাম। গত সাত মাসে এই একই স্থানে একে একে ছয়টি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) জোড়া লাশ উদ্ধারের পর বেরিয়ে এসেছে এক রোমহর্ষক তথ্য খুনি কোনো পেশাদার অপরাধী নয়, বরং সবার চোখের সামনে থাকা এক ভবঘুরে।

গত রোববার দুপুরে পরিত্যক্ত ওই ভবনটির দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আগের খুনের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানার ধারণ করা একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, মরদেহ কাঁধে নিয়ে যাচ্ছে এক ব্যক্তি, যাকে সবাই ছদ্মবেশী ভবঘুরে হিসেবে চিনত। এর ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাট নামের ওই যুবককে আটক করা হয়।

দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি সোহেল রানা গত শুক্রবার ওই ভবনে সম্রাট ও এক নারীকে কথা বলতে দেখে একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। ভিডিওতে ওই নারী নিজের নাম সোনিয়া বলে জানান। এর ঠিক দুদিন পরই সেই নারীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। ভিডিওর কথোপকথন এবং সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটের গতিবিধি মিলিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সম্রাটই সেই খুনি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি জানান সম্রাট একজন মানসিক বিকৃত বা ‘সাইকোপ্যাথিক’ কিলার তার প্রধান লক্ষ্য ছিল অসহায় ভবঘুরেরা। গত সাত মাসে সে একই স্থানে মোট ছয়জনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ ও ক্রাইমসিন ইউনিটের চোখে ধুলো দিয়ে সে ব্যাংক কলোনী বা লালটেক এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াত।

থানা থেকে মাত্র ১০০ গজ এবং সেনাক্যাম্প ও সরকারি কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে এমন ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা স্তম্ভিত হয়ে বলছেন, যাকে প্রতিদিন শান্তভাবে বসে থাকতে বা বিড়বিড় করতে দেখা যেত, সে-ই যে এত বড় খুনি হতে পারে তা অকল্পনীয়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিহতদের সবাই ভবঘুরে শ্রেণির। কেন এমন নৃশংসতা চালানো হতো, সেই মোটিভ বা উদ্দেশ্য উদঘাটন করা এখন সবচেয়ে জরুরি। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য সোমবার সম্রাটকে আদালতে তোলা হবে।