ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

কলম্বিয়ায় ফার্কের দুই উপদলের ভয়াবহ লড়াইয়ে অন্তত ২৭ জন নিহত

কলম্বিয়ার গুয়াভিয়ারে বিভাগের জঙ্গল এলাকায় কোকেন উৎপাদন ও পাচার রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বামপন্থি গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের (FARC) দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী উপদলের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।

গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এল রেতোর্নো নামক এলাকায় সংঘটিত এই লড়াইয়ে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রমতে, নিহতদের সবাই আইভনা মরদিস্কোর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী উপদলের সদস্য।

সংঘর্ষে লিপ্ত এই দুটি গোষ্ঠীই একসময় ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তারা আলাদা হয়ে যায়। বর্তমানে কালার্কা করদোবার নেতৃত্বাধীন একটি উপদল প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে গেলেও, আইভনা মরদিস্কোর গোষ্ঠীটি সরকারের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি ভেঙে পুনরায় সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে। মজার বিষয় হলো, উভয় পক্ষই ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

মাদক পাচার ও অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলা কলম্বিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাত গত ছয় দশকে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। গেরিলাদের এই সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যাপক রক্তক্ষরণ প্রেসিডেন্ট পেত্রোর ‘পূর্ণাঙ্গ শান্তি’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ টেকনাফের শীর্ষ সন্ত্রাসী শামশুলকে আটক করেছে নৌবাহিনী

কলম্বিয়ায় ফার্কের দুই উপদলের ভয়াবহ লড়াইয়ে অন্তত ২৭ জন নিহত

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

কলম্বিয়ার গুয়াভিয়ারে বিভাগের জঙ্গল এলাকায় কোকেন উৎপাদন ও পাচার রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বামপন্থি গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের (FARC) দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী উপদলের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।

গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এল রেতোর্নো নামক এলাকায় সংঘটিত এই লড়াইয়ে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রমতে, নিহতদের সবাই আইভনা মরদিস্কোর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী উপদলের সদস্য।

সংঘর্ষে লিপ্ত এই দুটি গোষ্ঠীই একসময় ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তারা আলাদা হয়ে যায়। বর্তমানে কালার্কা করদোবার নেতৃত্বাধীন একটি উপদল প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে গেলেও, আইভনা মরদিস্কোর গোষ্ঠীটি সরকারের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি ভেঙে পুনরায় সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে। মজার বিষয় হলো, উভয় পক্ষই ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

মাদক পাচার ও অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলা কলম্বিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাত গত ছয় দশকে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। গেরিলাদের এই সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যাপক রক্তক্ষরণ প্রেসিডেন্ট পেত্রোর ‘পূর্ণাঙ্গ শান্তি’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।