ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

কেমন নির্বাচন চাই: প্রত্যাশা ও বাস্তবতার দ্বৈরথ

একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পাওয়া যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আমাদের রয়েছে গৌরবের ইতিহাস, তবুও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচন নিয়ে জনমনে যেমন শঙ্কা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিশাল প্রত্যাশা। আশার কথা হলো, নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কেটেছে এবং অনেক দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে এই নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হবে, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

নির্বাচনকালীন সংঘাত, হামলা-মামলা কিংবা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আজও কাটেনি। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বড় সমস্যা হলো ক্ষমতায় থাকলে প্রশাসন ও পুলিশকে প্রভাবিত করা, আর বিরোধী দলে গেলে তার সমালোচনা করা। এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা যায়। মানুষ যদি নির্ভয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে, তবে জয়ী হবে গণতন্ত্র।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব সামান্য। তারা চায় কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত একটি পরিবেশ। ভোটাররা চান জবরদখল ও জাল ভোটমুক্ত কেন্দ্র এবং একটি নিরপেক্ষ, জনবান্ধব প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে সরকারের প্রভাবমুক্ত ও সম্পূর্ণ স্বাধীন। অতীতে ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের যে সংস্কৃতি আমরা দেখেছি, তা থেকে মুক্তি পাওয়াই এখনকার প্রধান দাবি।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সামনে এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তারা যদি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারে, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। অন্যথায়, দেশ নতুন করে রাজনৈতিক সংকট ও দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার মুখে পড়বে। বিগত শাসনামলে ভোটাররা কেন্দ্র থেকে ফিরে আসার যে তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তার পুনরাবৃত্তি জাতি আর দেখতে চায় না।

সবচেয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার চায়। বাংলাদেশ আজ তারুণ্যনির্ভর এক অদম্য দেশ। তরুণরা যদি দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে পারে, তবেই আমরা অতীতের কলঙ্কিত নির্বাচনী সংস্কৃতিকে পেছনে ফেলে আসতে পারব। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার পথে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

কেমন নির্বাচন চাই: প্রত্যাশা ও বাস্তবতার দ্বৈরথ

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পাওয়া যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আমাদের রয়েছে গৌরবের ইতিহাস, তবুও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচন নিয়ে জনমনে যেমন শঙ্কা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিশাল প্রত্যাশা। আশার কথা হলো, নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কেটেছে এবং অনেক দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে এই নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হবে, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

নির্বাচনকালীন সংঘাত, হামলা-মামলা কিংবা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আজও কাটেনি। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বড় সমস্যা হলো ক্ষমতায় থাকলে প্রশাসন ও পুলিশকে প্রভাবিত করা, আর বিরোধী দলে গেলে তার সমালোচনা করা। এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা যায়। মানুষ যদি নির্ভয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে, তবে জয়ী হবে গণতন্ত্র।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব সামান্য। তারা চায় কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত একটি পরিবেশ। ভোটাররা চান জবরদখল ও জাল ভোটমুক্ত কেন্দ্র এবং একটি নিরপেক্ষ, জনবান্ধব প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে সরকারের প্রভাবমুক্ত ও সম্পূর্ণ স্বাধীন। অতীতে ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের যে সংস্কৃতি আমরা দেখেছি, তা থেকে মুক্তি পাওয়াই এখনকার প্রধান দাবি।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সামনে এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তারা যদি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারে, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। অন্যথায়, দেশ নতুন করে রাজনৈতিক সংকট ও দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার মুখে পড়বে। বিগত শাসনামলে ভোটাররা কেন্দ্র থেকে ফিরে আসার যে তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তার পুনরাবৃত্তি জাতি আর দেখতে চায় না।

সবচেয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার চায়। বাংলাদেশ আজ তারুণ্যনির্ভর এক অদম্য দেশ। তরুণরা যদি দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে পারে, তবেই আমরা অতীতের কলঙ্কিত নির্বাচনী সংস্কৃতিকে পেছনে ফেলে আসতে পারব। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার পথে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।