
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় এক সাহসী রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামী শুক্রবার জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত নিজের সরকারের প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা, বিতর্কিত করছাড় এবং নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের পক্ষে জনগণের সরাসরি সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যেই তিনি এই আগাম নির্বাচনের পথে হাঁটছেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছেন এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পুনরায় তাঁর হাতে থাকবে কি না, সে বিষয়ে জনগণের সরাসরি রায় প্রত্যাশা করছেন।
ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করা এবং জোট সরকারের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে শক্তিশালী করাই এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ঘোষণা করেছেন যে, সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে আগামী দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ওপর ৮ শতাংশ কর স্থগিত রাখা হবে। যদিও এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি ইয়েন রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে, তবুও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করতে তিনি এই ঝুঁকি নিয়েছেন। এই ঘোষণার পর জাপানের আর্থিক বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং সরকারি বন্ডের সুদের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির পাশাপাশি এই নির্বাচনের বড় একটি ইস্যু হতে যাচ্ছে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা। তাকাইচি সরকার প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে, যা জাপানের দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় এক পরিবর্তন। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে চীনের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, যার ফলে চীন জাপানে খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে তাকাইচি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি চীনের সঙ্গে আলোচনার পথ সর্বদা উন্মুক্ত রাখবেন। সব মিলিয়ে নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের এই নির্বাচন কেবল সরকারের ভাগ্য নয়, বরং জাপানের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক নীতির গতিপথও নির্ধারণ করবে।
ডেক্স নিউজ/নিউজ টুডে 























