ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, পরিচালকসহ ৭ ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা!

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ৩য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে এই অভিযোগটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুর মা আমাতুল মাকনুন।

এতে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরীসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন- হাসপাতালটির সহযোগী কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. মো. তামিম সাফায়েত চৌধুরী

এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ডাক্তার ও নার্সকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সি সেকশনে পুত্র সন্তানের জননী হন আমাতুল মাকনুন। নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদ লিঙ্ক রোডস্থ সাজিনাস হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ভর্তির শুরুতে শ্বাসকষ্ট ছাড়া শিশুর শারীরিক অবস্থা অন্য সবদিক থেকে স্বাভাবিক ছিল।

গত ৩০ মে বাদি (শিশুটির মা) দেখতে পান নবজাতকের বাম হাতে ব্যান্ডেজ করা। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টিকে সামান্য বলে এড়িয়ে গেলেও পরদিন দেখা যায়, শিশুর বাম হাতের তালু কালো হয়ে গেছে এবং আঙুলে পচন (গ্যাংগ্রিন) শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে শিশুর শরীরে সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর বাম হাতে ভুল স্থানে আইভি ক্যানুলা করা এবং পরবর্তীতে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে রক্তনালী কেটে ফেলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

বাদিপক্ষের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্পেশালিস্ট থেকে মতামত সংগ্রহ করতে নির্দেশও দিয়েছেন সিআইডিকে।

এর আগে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ এনে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী মা আমাতুল মাকনুন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, পরিচালকসহ ৭ ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা!

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ৩য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে এই অভিযোগটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুর মা আমাতুল মাকনুন।

এতে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরীসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন- হাসপাতালটির সহযোগী কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. মো. তামিম সাফায়েত চৌধুরী

এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ডাক্তার ও নার্সকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ মে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সি সেকশনে পুত্র সন্তানের জননী হন আমাতুল মাকনুন। নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদ লিঙ্ক রোডস্থ সাজিনাস হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ভর্তির শুরুতে শ্বাসকষ্ট ছাড়া শিশুর শারীরিক অবস্থা অন্য সবদিক থেকে স্বাভাবিক ছিল।

গত ৩০ মে বাদি (শিশুটির মা) দেখতে পান নবজাতকের বাম হাতে ব্যান্ডেজ করা। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টিকে সামান্য বলে এড়িয়ে গেলেও পরদিন দেখা যায়, শিশুর বাম হাতের তালু কালো হয়ে গেছে এবং আঙুলে পচন (গ্যাংগ্রিন) শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে শিশুর শরীরে সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর বাম হাতে ভুল স্থানে আইভি ক্যানুলা করা এবং পরবর্তীতে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে রক্তনালী কেটে ফেলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

বাদিপক্ষের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্পেশালিস্ট থেকে মতামত সংগ্রহ করতে নির্দেশও দিয়েছেন সিআইডিকে।

এর আগে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ এনে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী মা আমাতুল মাকনুন।