ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী একটি রোলিং মিলের পাশেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মধ্যে। শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়া, শব্দদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনাকে ‘অযৌক্তিক, ঝুঁকিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব নয়’ বলে আখ্যায়িত করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের ফৌজদারহাট রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে সীমা রোলিং মিল সংলগ্ন প্রায় ৫৪১ শতক জমি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকায় জমি ক্রয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমা রোলিং মিল থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া, ধুলাবালি ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নির্গত হয়। পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতির বিকট শব্দে আশপাশের পরিবেশ সবসময় অস্বস্তিকর থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন নির্মল ও শান্ত পরিবেশ। কিন্তু এখানে সারাক্ষণ ধোঁয়া আর শব্দদূষণ। এই পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষার্থীরা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একই এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে ওই জায়গার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছি এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। তবে পরিবেশগত বিষয়, দূষণের মাত্রা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় পর্যালোচনা করে ট্রাস্টি বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্যদিকে পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিল্পপ্রবণ ও দূষণঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা না করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে সম্ভাব্য ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ বাতিল করে শিক্ষার জন্য উপযোগী, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ দুইয়ের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ: ​হোটেল পেনিনসুলার বিলে মদ্যপানের প্রমাণ মেলেনি!

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ১২:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী একটি রোলিং মিলের পাশেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মধ্যে। শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়া, শব্দদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনাকে ‘অযৌক্তিক, ঝুঁকিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব নয়’ বলে আখ্যায়িত করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের ফৌজদারহাট রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে সীমা রোলিং মিল সংলগ্ন প্রায় ৫৪১ শতক জমি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকায় জমি ক্রয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমা রোলিং মিল থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া, ধুলাবালি ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নির্গত হয়। পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতির বিকট শব্দে আশপাশের পরিবেশ সবসময় অস্বস্তিকর থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন নির্মল ও শান্ত পরিবেশ। কিন্তু এখানে সারাক্ষণ ধোঁয়া আর শব্দদূষণ। এই পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষার্থীরা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একই এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে ওই জায়গার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছি এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। তবে পরিবেশগত বিষয়, দূষণের মাত্রা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় পর্যালোচনা করে ট্রাস্টি বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্যদিকে পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিল্পপ্রবণ ও দূষণঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা না করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে সম্ভাব্য ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ বাতিল করে শিক্ষার জন্য উপযোগী, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ দুইয়ের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।