ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

আগামী ১৬ আগস্ট দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহায়তামূলক কার্যক্রমের সূচনা করবেন। পরবর্তী চার বছরে দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যাতে অনৈতিক সুবিধা না পান, সে জন্য তথ্যের নিয়মিত পর্যালোচনা ও সংযোজন-বিয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এটিকে একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বা গতিশীল সামাজিক তালিকা হিসেবে পরিচালনা করা হবে। ফলে মানুষের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ হবে।তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল তথা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য যাচাই করা হবে। ভাতা ও কার্ড বিতরণে অতীত যে অনিয়ম বা দুর্বলতা ছিল, তা দূর করতেই এই গতিশীল ব্যবস্থা আনা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে কোনো দরিদ্র পরিবার যেমন নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের সারিতে উঠতে পারে, তেমনি বিরূপ পরিস্থিতিতে কেউ দরিদ্রও হতে পারেন। তাই পরিবর্তনের এই সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।”সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বৈষম্য করা হবে না উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা গোত্র নির্বিশেষে কেবল মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকেই এই সুবিধা বণ্টন করা হবে।

কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে উদ্বোধনের পর আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বাড়ানো হবে। একসঙ্গে পুরো দেশে এটি চালু করা সম্ভব নয় বলেই ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক লক্ষ্য এক কোটি ৬০ লাখ পরিবার হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কার্ডের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের গৃহিণী বা নারী সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবারিক পুষ্টি এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিরসরাইয়ে গভীর রাতে বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ অর্থ ও ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট

ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
আগামী ১৬ আগস্ট দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহায়তামূলক কার্যক্রমের সূচনা করবেন। পরবর্তী চার বছরে দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যাতে অনৈতিক সুবিধা না পান, সে জন্য তথ্যের নিয়মিত পর্যালোচনা ও সংযোজন-বিয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এটিকে একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বা গতিশীল সামাজিক তালিকা হিসেবে পরিচালনা করা হবে। ফলে মানুষের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ হবে।তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল তথা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য যাচাই করা হবে। ভাতা ও কার্ড বিতরণে অতীত যে অনিয়ম বা দুর্বলতা ছিল, তা দূর করতেই এই গতিশীল ব্যবস্থা আনা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে কোনো দরিদ্র পরিবার যেমন নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের সারিতে উঠতে পারে, তেমনি বিরূপ পরিস্থিতিতে কেউ দরিদ্রও হতে পারেন। তাই পরিবর্তনের এই সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।”সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বৈষম্য করা হবে না উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা গোত্র নির্বিশেষে কেবল মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকেই এই সুবিধা বণ্টন করা হবে।

কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে উদ্বোধনের পর আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বাড়ানো হবে। একসঙ্গে পুরো দেশে এটি চালু করা সম্ভব নয় বলেই ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক লক্ষ্য এক কোটি ৬০ লাখ পরিবার হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কার্ডের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের গৃহিণী বা নারী সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবারিক পুষ্টি এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।