ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাধারণ নাগরিক কি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন? সংবিধানে যা বলা আছে

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনেও একটি কৌতূহল দেখা দিয়েছে-দেশের একজন সাধারণ নাগরিক কি চাইলে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য লড়তে পারেন, নাকি এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি বা প্রক্রিয়া আবশ্যক?সংবিধান ও নির্বাচনি আইন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপ্রধান। এ কারণে এটিকে পরোক্ষ নির্বাচন বলা হয়। অর্থাৎ একজন সাধারণ নাগরিক সরাসরি ভোট দিয়ে যেমন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারেন না, তেমনি সরাসরি নিজেকে প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা করতে পারেন না।

তবে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সংবিধানে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে যেকোনো সাধারণ নাগরিকও এই পদের যোগ্য হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর এবং জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। এ ছাড়া অতীতে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়া কোনো ব্যক্তি এই পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকলেও একজন সাধারণ নাগরিক চাইলেই এককভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন না। এই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের লিখিত সমর্থন প্রয়োজন হয়। নিয়মানুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একজন সংসদ সদস্যকে ‘প্রস্তাবক’ এবং অন্য আরেকজন সংসদ সদস্যকে ‘সমর্থক’ হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। ফলে সংসদ সদস্যদের সমর্থন ছাড়া কোনো সাধারণ নাগরিকের পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক লড়াইয়ে নামা সম্ভব নয়।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তবেই কেবল সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি মাত্র একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ থাকে, তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণটি বেশ স্পষ্ট। বর্তমান জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির আসন সংখ্যা ২৪৭টি। ফলে দলটির পক্ষ থেকে যাকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করা হবে, তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দলগুলোর প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না।উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি শূন্য হয়। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।

সবশেষে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে-এবারের রাষ্ট্রপতি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে, নাকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই দেশ পেতে যাচ্ছে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানকে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে মেসিকে নিয়ে কী ঘটেছিল, ভয়ঙ্কর নথি ফাঁস!

সাধারণ নাগরিক কি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন? সংবিধানে যা বলা আছে

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনেও একটি কৌতূহল দেখা দিয়েছে-দেশের একজন সাধারণ নাগরিক কি চাইলে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য লড়তে পারেন, নাকি এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি বা প্রক্রিয়া আবশ্যক?সংবিধান ও নির্বাচনি আইন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপ্রধান। এ কারণে এটিকে পরোক্ষ নির্বাচন বলা হয়। অর্থাৎ একজন সাধারণ নাগরিক সরাসরি ভোট দিয়ে যেমন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারেন না, তেমনি সরাসরি নিজেকে প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা করতে পারেন না।

তবে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সংবিধানে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে যেকোনো সাধারণ নাগরিকও এই পদের যোগ্য হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর এবং জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। এ ছাড়া অতীতে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়া কোনো ব্যক্তি এই পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকলেও একজন সাধারণ নাগরিক চাইলেই এককভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন না। এই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের লিখিত সমর্থন প্রয়োজন হয়। নিয়মানুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একজন সংসদ সদস্যকে ‘প্রস্তাবক’ এবং অন্য আরেকজন সংসদ সদস্যকে ‘সমর্থক’ হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। ফলে সংসদ সদস্যদের সমর্থন ছাড়া কোনো সাধারণ নাগরিকের পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক লড়াইয়ে নামা সম্ভব নয়।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তবেই কেবল সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি মাত্র একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ থাকে, তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণটি বেশ স্পষ্ট। বর্তমান জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির আসন সংখ্যা ২৪৭টি। ফলে দলটির পক্ষ থেকে যাকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করা হবে, তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দলগুলোর প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না।উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি শূন্য হয়। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।

সবশেষে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে-এবারের রাষ্ট্রপতি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে, নাকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই দেশ পেতে যাচ্ছে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানকে।