ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট)  পাকিস্তান হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিক, বাংলাদেশি বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মদ ইসহাক দারের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

দেশটির নেতৃত্ব স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তারা জাতির পিতা কায়েদে-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল এবং পাকিস্তান আন্দোলনের সেইসব নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান, যাদের আত্মত্যাগ, দূরদর্শিতা ও অটুট অঙ্গীকারের ফলে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য অর্জনের কথা তুলে ধরে দেশটির নেতৃত্ব উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন এবং জাতির প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কায়েদে-আজমের নির্দেশিত ঐক্য, বিশ্বাস ও শৃঙ্খলা-র নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। ভারতের বিরুদ্ধে অপারেশন মারাক-এ-হক-এর সাফল্যের কথা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে দেশটির নেতৃত্ব পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়।

ভারতীয়-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আলোকে জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের সমাধানের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারও পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।

এ ছাড়া আফগানিস্তানের মাটি থেকে পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাইকমিশন আয়োজিত ‘পাকিস্তানের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।
পাকিস্তানের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

আপডেট সময় : ১০:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ঢাকায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট)  পাকিস্তান হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিক, বাংলাদেশি বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মদ ইসহাক দারের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

দেশটির নেতৃত্ব স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তারা জাতির পিতা কায়েদে-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল এবং পাকিস্তান আন্দোলনের সেইসব নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান, যাদের আত্মত্যাগ, দূরদর্শিতা ও অটুট অঙ্গীকারের ফলে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য অর্জনের কথা তুলে ধরে দেশটির নেতৃত্ব উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন এবং জাতির প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কায়েদে-আজমের নির্দেশিত ঐক্য, বিশ্বাস ও শৃঙ্খলা-র নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। ভারতের বিরুদ্ধে অপারেশন মারাক-এ-হক-এর সাফল্যের কথা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে দেশটির নেতৃত্ব পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়।

ভারতীয়-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আলোকে জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের সমাধানের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারও পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।

এ ছাড়া আফগানিস্তানের মাটি থেকে পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাইকমিশন আয়োজিত ‘পাকিস্তানের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।
পাকিস্তানের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হয়।