ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইউরোপীয়রা ‘ডাকাত ও জলদস্যু’: লাভরভ

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিরুদ্ধে রাশিয়ার জ্বালানি বহনকারী জাহাজের ওপর নেওয়া পদক্ষেপকে ‘ডাকাতি’ ও ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিযোগ করেছেন।লাভরভ বলেন, ইইউ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার দাবি, এই ধারণাটি ইইউ নিজেই তৈরি করেছে এবং এর মাধ্যমে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইইউ সদস্যদেশগুলোকে শুধু এসব জাহাজ থামিয়ে তল্লাশি করার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে জাহাজ ও এর পণ্য জব্দ করে বিক্রি করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থ ইউক্রেনকে দেওয়া হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।রাশিয়ার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে লাভরভ বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করা হলে মস্কো ‘সমানভাবে জবাব’ দেবে।

লাভরভের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া নিজেরাই ঠিক করবে কোন জাহাজকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে—বিশেষ করে যেসব দেশের সরকার রাশিয়ার ভাষায় এই ধরনের ‘ডাকাতি ও জলদস্যুতা’কে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছে।

এর আগে পুতিনও সতর্ক করেছিলেন যে ইউরোপীয় দেশগুলো রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করলে রাশিয়া পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে ও সেই প্রতিক্রিয়া একই সমুদ্র এলাকায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

রাশিয়া মনে করছে, ইইউ রুশ তেল-জ্বালানি পরিবহনের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে ইইউ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ঠেকানোর অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সামুদ্রিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপীয়রা ‘ডাকাত ও জলদস্যু’: লাভরভ

আপডেট সময় : ১০:৪৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিরুদ্ধে রাশিয়ার জ্বালানি বহনকারী জাহাজের ওপর নেওয়া পদক্ষেপকে ‘ডাকাতি’ ও ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিযোগ করেছেন।লাভরভ বলেন, ইইউ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার দাবি, এই ধারণাটি ইইউ নিজেই তৈরি করেছে এবং এর মাধ্যমে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইইউ সদস্যদেশগুলোকে শুধু এসব জাহাজ থামিয়ে তল্লাশি করার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে জাহাজ ও এর পণ্য জব্দ করে বিক্রি করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থ ইউক্রেনকে দেওয়া হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।রাশিয়ার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে লাভরভ বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করা হলে মস্কো ‘সমানভাবে জবাব’ দেবে।

লাভরভের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া নিজেরাই ঠিক করবে কোন জাহাজকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে—বিশেষ করে যেসব দেশের সরকার রাশিয়ার ভাষায় এই ধরনের ‘ডাকাতি ও জলদস্যুতা’কে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছে।

এর আগে পুতিনও সতর্ক করেছিলেন যে ইউরোপীয় দেশগুলো রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করলে রাশিয়া পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে ও সেই প্রতিক্রিয়া একই সমুদ্র এলাকায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

রাশিয়া মনে করছে, ইইউ রুশ তেল-জ্বালানি পরিবহনের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে ইইউ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ঠেকানোর অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সামুদ্রিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।