ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

পাঁচ বছরে ক্লাস না নিয়েই বেতন ভাতা নিচ্ছে ; অনিয়মে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জড়িয়ে থাকার অভিযোগ

 

 

পাঁচ বছরে কোন ক্লাস না নিয়েই সরকারি নিয়মে বেতন ভাতা নিচ্ছে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশীপুর মুহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক হোসেন মিয়ার।
এই অনিয়মে একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের জড়িয়ে থাকার অভিযোগ করছে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা।

সরেজমিনে জানা যায়, কাশিপুর মুহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক হোসেন মিয়া সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সরকারি বেতনভুক্ত হলেও গত পাঁচ বছরে একদিনও ক্লাস করেনিও মাদ্রাসা ও আসেনা।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কেউই এই শিক্ষককে কখনো ক্লাস নিতে দেখেনি, এমনকি চিনেও না।
২০২১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনি মাদ্রাসায় উপস্থিত হননি, হাজিরায় কখনো দেখানো হয়েছে হোসেন মিয়ার স্বাক্ষর, আবার কখনো দেখানো হয়েছে ছুটি, বিষয়টি কোন শিক্ষক বা কমিটি জানেনা কেনো বা কি কারণে অনুপস্থিত। তারপর ও অধ্যক্ষের সহায়তায় নিয়মিত বেতন ও বোনাস নিচ্ছে,
এই অভিযোগে অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিনকে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই নিয়ম আমার আগের অধ্যক্ষ থেকে হয়ে আসছে (যদিও তিনি প্রায় ৪বছর এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ) তবে নতুন কমিটির সমন্বয়ে বিষয়টি কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিয়মিতভাবে সরকারি তহবিল থেকে নিচ্ছেন বেতন- ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা
যেখানে প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান প্রধান বেতন নথিতে স্বাক্ষর করতে হয় একথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি একন ঢাকা আছি, আপনারা আগামীকাল আসেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিনের যোগসাজশে শিক্ষক হোসেন মিয়া হাজিরা স্বাক্ষর করতে পারে, এই শিক্ষক মাদ্রাসায় না এলেও সরকারের নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন যা শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরনের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ।

মাদ্রাসার সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি একাধিকবার আলোচনা হয়, কিন্তু অধ্যক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

পাঁচ বছরে ক্লাস না নিয়েই বেতন ভাতা নিচ্ছে ; অনিয়মে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জড়িয়ে থাকার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:১০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

 

 

পাঁচ বছরে কোন ক্লাস না নিয়েই সরকারি নিয়মে বেতন ভাতা নিচ্ছে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশীপুর মুহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক হোসেন মিয়ার।
এই অনিয়মে একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের জড়িয়ে থাকার অভিযোগ করছে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা।

সরেজমিনে জানা যায়, কাশিপুর মুহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক হোসেন মিয়া সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সরকারি বেতনভুক্ত হলেও গত পাঁচ বছরে একদিনও ক্লাস করেনিও মাদ্রাসা ও আসেনা।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কেউই এই শিক্ষককে কখনো ক্লাস নিতে দেখেনি, এমনকি চিনেও না।
২০২১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনি মাদ্রাসায় উপস্থিত হননি, হাজিরায় কখনো দেখানো হয়েছে হোসেন মিয়ার স্বাক্ষর, আবার কখনো দেখানো হয়েছে ছুটি, বিষয়টি কোন শিক্ষক বা কমিটি জানেনা কেনো বা কি কারণে অনুপস্থিত। তারপর ও অধ্যক্ষের সহায়তায় নিয়মিত বেতন ও বোনাস নিচ্ছে,
এই অভিযোগে অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিনকে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই নিয়ম আমার আগের অধ্যক্ষ থেকে হয়ে আসছে (যদিও তিনি প্রায় ৪বছর এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ) তবে নতুন কমিটির সমন্বয়ে বিষয়টি কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিয়মিতভাবে সরকারি তহবিল থেকে নিচ্ছেন বেতন- ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা
যেখানে প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান প্রধান বেতন নথিতে স্বাক্ষর করতে হয় একথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি একন ঢাকা আছি, আপনারা আগামীকাল আসেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিনের যোগসাজশে শিক্ষক হোসেন মিয়া হাজিরা স্বাক্ষর করতে পারে, এই শিক্ষক মাদ্রাসায় না এলেও সরকারের নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন যা শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরনের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ।

মাদ্রাসার সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি একাধিকবার আলোচনা হয়, কিন্তু অধ্যক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।