ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

শহীদ ওয়াসিম উড়াল সড়ক আট মাসে গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে দেড় লাখ গাড়ি

চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার। তবে এখানে গাড়ি চলে তিন গুণ গতিতে। পরীক্ষামূলক বসানো স্পিড ক্যামেরায় সর্বোচ্চ ১৯৩ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলতেও দেখা গেছে। আট মাসে দেড় লাখের বেশি গাড়ি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করলেও কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়নি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। উড়াল সড়কটি যেন ‘রেসট্র্যাক’ হয়ে উঠেছে। বেপরোয়া গতির কারণে বারবার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।

ট্রাফিক বিভাগ বলছে, দ্রুতগতির ও বিপুল সংখ্যক যানবাহন ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে আইন প্রয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি গতিসীমার দৃশ্যমান বোর্ড স্থাপন ও চালকের সচেতনতা বাড়াতে হবে।

তিন গুণ গতি, ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই উড়াল সড়ক উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলক গাড়ি চলাচল শুরু হয় গত বছর আগস্টে। গত ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে টোল আদায়। উড়াল সড়কে যানবাহন চলাচলে গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষামূলক স্পিড ক্যামেরা বসিয়ে যানবাহনের গতি পর্যবেক্ষণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই আট মাসে এক লাখ ৫৩ হাজার ৫৪৪টি গাড়ি গতিসীমা লঙ্ঘন করে। এসব যানবাহন ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১৯৩ কিলোমিটার গতিবেগে উড়াল সড়কে ছুটেছে, যা নির্ধারিত গতিসীমার তিন গুণের বেশি। এর মধ্যে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে যাতায়াত করেছে ৩ হাজার ৫৩৪টি যানবাহন। উড়াল সড়কে টোল আদায় শুরুর পর গত ১১ মাসে যাতায়াত করেছে ২৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯০৫টি যানবাহন।

প্রতিদিন গতিসীমা মানছে না ৬৪৫ গাড়ি, সিডিএর হিসাব অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষ ১০ দিনে গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে ১২ হাজার ৮৮৪টি যানবাহন। জানুয়ারিতে ২৯ হাজার ৩১৯টি, ফেব্রুয়ারিতে ২১ হাজার ৬৯০টি, মার্চে ৩২ হাজার ৮২৭টি, এপ্রিলে ৫ হাজার ৩৭৬টি, মে মাসে ১৪ হাজার ৫২৬টি, জুনে ৮৭১টি, জুলাইয়ে ১৮ হাজার ২২২টি ও আগস্টের প্রথম ১৬ দিনে ১৭ হাজার ৮২৯টি গাড়ি গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। এই হিসাবে প্রতিদিন যাতায়াত করা ৬৪৫টি যানবাহন গতিসীমা লঙ্ঘন করে। মার্চে সর্বোচ্চ প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫৮টি গাড়ি গতিসীমা লঙ্ঘন করে যাতায়াত করেছে।

বেপরোয়া গতি, কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ, গত ২০ নভেম্বর বিকেলে উড়াল সড়ক থেকে প্রতিরোধ দেয়ালের ওপর দিয়ে একটি প্রাইভেটকার নিচের সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে চাপা পড়ে উড়াল সড়কের নিচ দিয়ে যাওয়া সাইকেল আরোহী মোহাম্মদ শফিক নিহত হন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারী ছিলেন।
পুলিশ ও সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, প্রাইভেটকারের চালকের আসনে ছিলেন এক নারী। গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় প্রতিরোধ দেয়ালের ওপর দিয়ে কারটি নিচে উল্টে পড়ে।

গত ২৯ নভেম্বর উড়াল সড়কের পতেঙ্গা অংশে টোল প্লাজার পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দ্রুতগতির একটি বাসের হেলপার মো. শাহেদ নিহত হন। এর আগে গত ৫ ও ১২ নভেম্বর রাতে দুটি প্রাইভেটকার উল্টে যায়। এসব দুর্ঘটনায় থানায় অভিযোগ না হওয়ায় হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিডিএর চিঠি, ট্রাফিক বিভাগ চায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা , বারবার দুর্ঘটনার কারণে গত ২১ অক্টোবর গতিসীমা লঙ্ঘন করা যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছে সিডিএর সচিব রবীন্দ্র চাকমা। এতে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের ওপরে চলা গাড়ির পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বর যুক্ত করা হয়। গত ২৪ নভেম্বর আরেকটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উড়াল সড়কের ওপরে যানবাহন দাঁড় করিয়ে কিছু মানুষ বসে সময় কাটানো ও ভিডিও বানানোর চেষ্টা করে, যা যান চলাচলের জন্য বিপজ্জনক। এতে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাফিক সাইনে গতিসীমা নির্দেশিত থাকলেও তা অমান্য করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। উড়াল সড়কে এসব কার্যকলাপ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়। তবে কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেয়নি ট্রাফিক বিভাগ।

উড়াল সড়কের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, দ্রুতগতির কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই উড়াল সড়ক নিরাপদ করতে করণীয় নির্ধারণে সব সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

সিএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) কবীর আহম্মেদ বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি ট্রাফিক আইন প্রয়োগ অসম্ভব। যেভাবে দ্রুতগতিতে গাড়ি চলে, এখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মামলা করা পুলিশের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। এ সমস্যা সমাধানে সিডিএকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করতে হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য ট্রাফিক সার্জেন্টের কাছে চলে যাবে। ট্রাফিক সার্জেন্ট মামলা দিলে এ তথ্য চলে যাবে গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোন নম্বরে। এভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারলে গতির লাগাম টানা সম্ভব।

চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উড়াল সড়ক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ চার হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন উড়াল সড়কে ওঠানামার ৯টি র্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। শুরুতে এটিকে ‘মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী-সিডিএ ফ্লাইওভার’ নামকরণ করা হয়েছিল। পরে গত ১ জানুয়ারি ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়ক’ নামকরণ করা হয়। চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ওয়াসিম আকরাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ‘প্রথম শহীদ’।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

শহীদ ওয়াসিম উড়াল সড়ক আট মাসে গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে দেড় লাখ গাড়ি

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার। তবে এখানে গাড়ি চলে তিন গুণ গতিতে। পরীক্ষামূলক বসানো স্পিড ক্যামেরায় সর্বোচ্চ ১৯৩ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলতেও দেখা গেছে। আট মাসে দেড় লাখের বেশি গাড়ি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করলেও কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়নি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। উড়াল সড়কটি যেন ‘রেসট্র্যাক’ হয়ে উঠেছে। বেপরোয়া গতির কারণে বারবার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে।

ট্রাফিক বিভাগ বলছে, দ্রুতগতির ও বিপুল সংখ্যক যানবাহন ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে আইন প্রয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি গতিসীমার দৃশ্যমান বোর্ড স্থাপন ও চালকের সচেতনতা বাড়াতে হবে।

তিন গুণ গতি, ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই উড়াল সড়ক উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলক গাড়ি চলাচল শুরু হয় গত বছর আগস্টে। গত ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে টোল আদায়। উড়াল সড়কে যানবাহন চলাচলে গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষামূলক স্পিড ক্যামেরা বসিয়ে যানবাহনের গতি পর্যবেক্ষণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই আট মাসে এক লাখ ৫৩ হাজার ৫৪৪টি গাড়ি গতিসীমা লঙ্ঘন করে। এসব যানবাহন ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১৯৩ কিলোমিটার গতিবেগে উড়াল সড়কে ছুটেছে, যা নির্ধারিত গতিসীমার তিন গুণের বেশি। এর মধ্যে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে যাতায়াত করেছে ৩ হাজার ৫৩৪টি যানবাহন। উড়াল সড়কে টোল আদায় শুরুর পর গত ১১ মাসে যাতায়াত করেছে ২৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯০৫টি যানবাহন।

প্রতিদিন গতিসীমা মানছে না ৬৪৫ গাড়ি, সিডিএর হিসাব অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষ ১০ দিনে গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে ১২ হাজার ৮৮৪টি যানবাহন। জানুয়ারিতে ২৯ হাজার ৩১৯টি, ফেব্রুয়ারিতে ২১ হাজার ৬৯০টি, মার্চে ৩২ হাজার ৮২৭টি, এপ্রিলে ৫ হাজার ৩৭৬টি, মে মাসে ১৪ হাজার ৫২৬টি, জুনে ৮৭১টি, জুলাইয়ে ১৮ হাজার ২২২টি ও আগস্টের প্রথম ১৬ দিনে ১৭ হাজার ৮২৯টি গাড়ি গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। এই হিসাবে প্রতিদিন যাতায়াত করা ৬৪৫টি যানবাহন গতিসীমা লঙ্ঘন করে। মার্চে সর্বোচ্চ প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫৮টি গাড়ি গতিসীমা লঙ্ঘন করে যাতায়াত করেছে।

বেপরোয়া গতি, কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ, গত ২০ নভেম্বর বিকেলে উড়াল সড়ক থেকে প্রতিরোধ দেয়ালের ওপর দিয়ে একটি প্রাইভেটকার নিচের সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে চাপা পড়ে উড়াল সড়কের নিচ দিয়ে যাওয়া সাইকেল আরোহী মোহাম্মদ শফিক নিহত হন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারী ছিলেন।
পুলিশ ও সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, প্রাইভেটকারের চালকের আসনে ছিলেন এক নারী। গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় প্রতিরোধ দেয়ালের ওপর দিয়ে কারটি নিচে উল্টে পড়ে।

গত ২৯ নভেম্বর উড়াল সড়কের পতেঙ্গা অংশে টোল প্লাজার পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দ্রুতগতির একটি বাসের হেলপার মো. শাহেদ নিহত হন। এর আগে গত ৫ ও ১২ নভেম্বর রাতে দুটি প্রাইভেটকার উল্টে যায়। এসব দুর্ঘটনায় থানায় অভিযোগ না হওয়ায় হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিডিএর চিঠি, ট্রাফিক বিভাগ চায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা , বারবার দুর্ঘটনার কারণে গত ২১ অক্টোবর গতিসীমা লঙ্ঘন করা যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছে সিডিএর সচিব রবীন্দ্র চাকমা। এতে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের ওপরে চলা গাড়ির পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বর যুক্ত করা হয়। গত ২৪ নভেম্বর আরেকটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উড়াল সড়কের ওপরে যানবাহন দাঁড় করিয়ে কিছু মানুষ বসে সময় কাটানো ও ভিডিও বানানোর চেষ্টা করে, যা যান চলাচলের জন্য বিপজ্জনক। এতে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাফিক সাইনে গতিসীমা নির্দেশিত থাকলেও তা অমান্য করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। উড়াল সড়কে এসব কার্যকলাপ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়। তবে কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেয়নি ট্রাফিক বিভাগ।

উড়াল সড়কের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, দ্রুতগতির কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই উড়াল সড়ক নিরাপদ করতে করণীয় নির্ধারণে সব সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

সিএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) কবীর আহম্মেদ বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি ট্রাফিক আইন প্রয়োগ অসম্ভব। যেভাবে দ্রুতগতিতে গাড়ি চলে, এখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মামলা করা পুলিশের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। এ সমস্যা সমাধানে সিডিএকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করতে হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য ট্রাফিক সার্জেন্টের কাছে চলে যাবে। ট্রাফিক সার্জেন্ট মামলা দিলে এ তথ্য চলে যাবে গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোন নম্বরে। এভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারলে গতির লাগাম টানা সম্ভব।

চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উড়াল সড়ক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ চার হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন উড়াল সড়কে ওঠানামার ৯টি র্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। শুরুতে এটিকে ‘মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী-সিডিএ ফ্লাইওভার’ নামকরণ করা হয়েছিল। পরে গত ১ জানুয়ারি ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়ক’ নামকরণ করা হয়। চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ওয়াসিম আকরাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ‘প্রথম শহীদ’।