
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে ফের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছেন রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিটির মুখপাত্র আব্দুর রহমান এসব তথ্য জানান।
চূড়ান্ত আলটিমেটামের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চারটি অধ্যাদেশ মঞ্চ স্থাপন ও গণজমায়েতের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা। একই সঙ্গে সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে একটি ভ্রাম্যমাণ অধ্যাদেশ মঞ্চ উন্মোচনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারি হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
মুখপাত্র আব্দুর রহমান জানান, ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানে চারটি অধ্যাদেশ মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। ট্রাকভিত্তিক একটি ভাসমান মঞ্চ সাতটি ক্যাম্পাসে ঘুরে নির্ধারিত সময়ে জনসভা করবে। ঢাকা কলেজ, ইডেন ও বদরুন্নেসা মিলিয়ে এক বা দুটি, বাঙলা কলেজের সামনে একটি, কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ মিলিয়ে একটি এবং তিতুমীর কলেজের সামনে একটি মঞ্চ থাকবে। এসব মঞ্চে সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম হতে পারে।
তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ অধ্যাদেশ মঞ্চটি ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত কলেজের প্রতিটি ক্যাম্পাসে পালাক্রমে যাবে। ২২ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী মঞ্চ নিয়ে আবারও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জমায়েত হবেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে গেজেটে প্রকাশ হলে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বৃহৎ বিজয় মিছিল করা হবে। কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সেখান থেকেই যমুনা বা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা রয়েছে।
মুখপাত্র আরও জানান, বুধবার ক্যাবিনেট মিটিংয়ে তোলার বিষয়ে আপডেট জানা যাবে। সেদিন কোনো নেগেটিভ আপডেট এলে তাৎক্ষণিকভাবে ‘মার্চ ফর যমুনা’ কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে। পজিটিভ হলে বৃহস্পতিবার চারটি অধ্যাদেশ মঞ্চ থেকে সবাই একযোগে সায়েন্স ল্যাবের ভাসমান মঞ্চে এসে আনন্দ মিছিল করবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। খসড়া চূড়ান্ত করার আগে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত গ্রহণ, ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমত সংগ্রহ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমত নেওয়াসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী অধ্যাদেশ মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষাবিদ ও সুধীজনকে যুক্ত করে তাদের দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে।
প্রতিনিধির নাম 




























