ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েতে ১৯৩ কোটি টাকা লুটপাটের নতুন ছক: মাস্টারমাইন্ড পিডি মাহফুজ!

চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং চুক্তি বহির্ভূতভাবে ‘মূল্য সমন্বয়ের’ (প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট) নামে সরকারের অতিরিক্ত ১৯৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) এক শ্রেণির প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাক্স’ এর যোগসাজশে এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলছে।

​অভিযোগের তির মূলত প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের দিকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণেই প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে, যার সরাসরি সুবিধাভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

৩ বছরের প্রকল্প ৯ বছরে, ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ৪৮ কোটি!

​নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে যখন মেগা প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়, তখন এর প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সিডিএ এবং ম্যাক্স-র‌্যাঙ্কিন যৌথ কোম্পানির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

​তবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করে প্রথম দফায় ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরবর্তীতে সিডিএ’র প্রকৌশলীদের বিশেষ তদবিরে এক লাফে প্রকল্পের ব্যয় আরও ১ হাজার ৪৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে কাজের মেয়াদও ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

সিডিএ’র দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস এবং প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিগত সরকারের আমলে এই দুই কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব বা ‘আওয়ামী কার্ড’ ব্যবহার করে বহাল তবিয়তে ছিলেন। রাজনৈতিক সখ্যতার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা অন্যান্য সংস্থার তদন্তের মুখ থেকেও বারবার তারা পার পেয়ে যান। আর এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার রাস্তা তৈরি করা হয়।

গণপূর্ত অধিদফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল্য সমন্বয় ভেরিয়েশন করার জন্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান ফাইল জমা দেয়। শুরুতে গণপূর্ত সচিব কে ফাইলটি তদন্তের জন্যে দেয়। কিন্তু পিডি মাহফুজ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পেলে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প সময় মতো কাজ শেষ না করে, প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করে ‘মূল্য সমন্বয়’ করে প্রকল্পের বরাদ্দের চেয়ে বেশী টাকা পাস করানো হচ্ছে।
সূত্রমতে, গণপূর্ত সচিব ওই ফাইলটি সিডিএ এর সদস্য জামিলুর রহমান ও সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল নজরুল’কে তদন্ত করে ফাইল সাবমিট করার দায়িত্ব দেন। ফাইলটি তদন্তের জন্যে সিডিএ-তে আসলে মাহফুজ মোটা অংকের টাকা দিয়ে কিনে নেন। পরবর্তীতে ফাইলটিতে পজিটিভ রিপোর্ট দিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে “সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটি” তে প্রেরণ করা হয়। যদিও ফাইলটি এখনও পর্যন্ত পাস হয়নি। এই ফাইলটি পাস হলে ১৯৩ কোটি টাকা বেশি হাতিয়ে নিয়ে যাবে ম্যাক্স ও মাহফুজ গং।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানকে উলঙ্গভাবে সহযোগিতা করছে সিডিএ’র সদস্য জামিলুর রহমান ও প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল নজরুল। সম্প্রতি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন চট্টগ্রাম এসেছিলেন। তখন এই বিষয় নিয়ে সার্কিট হাউজের মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা এক প্রকৌশলী প্রতিবেদককে জানান সিডিএ’র সার্বক্ষণিক সদস্য জামিলুর রহমান মন্ত্রীর সামনে সুক্ষ্মভাবে প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের পক্ষে হয়ে কথা বলেছেন। যদিও তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কেউই নন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে যে দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্তের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। সেই তদন্ত কমিটি মাহফুজের তদবিরের কারণে মাহফুজের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরও আওয়ামী লীগের দাপুটে প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি থামিয়ে দেয়া হয়েছে অদৃশ্য ইশারায়। এসব লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামী রোড, দেওয়ানহাট থেকে এ.কে খান রোড, সাগরিকা স্টেডিয়াম রোড নির্মাণেও দূর্নীতির অভিযোগ আছে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে। পর পর দুটি প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সকে অনিয়ম করে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চুক্তি ও প্রকল্প নকশার বাইরে গিয়ে নতুন করে ১৯৩ কোটি টাকা ‘মূল্য সমন্বয়’ বাবদ দাবি করা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। মেগা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নজিরবিহীন খরচের পরও এই অতিরিক্ত অর্থ ছাড় করা হলে তা সরাসরি প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদারের পকেটে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক কমিটির নেতারা জানান, মেগা প্রকল্পের নামে এভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকা লোপাটের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে এই প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন করে ১৯৩ কোটি টাকা দাবির নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

তথ্য সূত্র: প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর এর ফেইসবুক পোস্ট থেকে..

ট্যাগস :

চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েতে ১৯৩ কোটি টাকা লুটপাটের নতুন ছক: মাস্টারমাইন্ড পিডি মাহফুজ!

চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েতে ১৯৩ কোটি টাকা লুটপাটের নতুন ছক: মাস্টারমাইন্ড পিডি মাহফুজ!

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং চুক্তি বহির্ভূতভাবে ‘মূল্য সমন্বয়ের’ (প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট) নামে সরকারের অতিরিক্ত ১৯৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) এক শ্রেণির প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাক্স’ এর যোগসাজশে এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলছে।

​অভিযোগের তির মূলত প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের দিকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণেই প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে, যার সরাসরি সুবিধাভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

৩ বছরের প্রকল্প ৯ বছরে, ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ৪৮ কোটি!

​নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে যখন মেগা প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়, তখন এর প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সিডিএ এবং ম্যাক্স-র‌্যাঙ্কিন যৌথ কোম্পানির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

​তবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করে প্রথম দফায় ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরবর্তীতে সিডিএ’র প্রকৌশলীদের বিশেষ তদবিরে এক লাফে প্রকল্পের ব্যয় আরও ১ হাজার ৪৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে কাজের মেয়াদও ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

সিডিএ’র দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস এবং প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিগত সরকারের আমলে এই দুই কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব বা ‘আওয়ামী কার্ড’ ব্যবহার করে বহাল তবিয়তে ছিলেন। রাজনৈতিক সখ্যতার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা অন্যান্য সংস্থার তদন্তের মুখ থেকেও বারবার তারা পার পেয়ে যান। আর এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার রাস্তা তৈরি করা হয়।

গণপূর্ত অধিদফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল্য সমন্বয় ভেরিয়েশন করার জন্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান ফাইল জমা দেয়। শুরুতে গণপূর্ত সচিব কে ফাইলটি তদন্তের জন্যে দেয়। কিন্তু পিডি মাহফুজ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পেলে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প সময় মতো কাজ শেষ না করে, প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করে ‘মূল্য সমন্বয়’ করে প্রকল্পের বরাদ্দের চেয়ে বেশী টাকা পাস করানো হচ্ছে।
সূত্রমতে, গণপূর্ত সচিব ওই ফাইলটি সিডিএ এর সদস্য জামিলুর রহমান ও সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল নজরুল’কে তদন্ত করে ফাইল সাবমিট করার দায়িত্ব দেন। ফাইলটি তদন্তের জন্যে সিডিএ-তে আসলে মাহফুজ মোটা অংকের টাকা দিয়ে কিনে নেন। পরবর্তীতে ফাইলটিতে পজিটিভ রিপোর্ট দিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে “সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটি” তে প্রেরণ করা হয়। যদিও ফাইলটি এখনও পর্যন্ত পাস হয়নি। এই ফাইলটি পাস হলে ১৯৩ কোটি টাকা বেশি হাতিয়ে নিয়ে যাবে ম্যাক্স ও মাহফুজ গং।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানকে উলঙ্গভাবে সহযোগিতা করছে সিডিএ’র সদস্য জামিলুর রহমান ও প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল নজরুল। সম্প্রতি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন চট্টগ্রাম এসেছিলেন। তখন এই বিষয় নিয়ে সার্কিট হাউজের মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা এক প্রকৌশলী প্রতিবেদককে জানান সিডিএ’র সার্বক্ষণিক সদস্য জামিলুর রহমান মন্ত্রীর সামনে সুক্ষ্মভাবে প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের পক্ষে হয়ে কথা বলেছেন। যদিও তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কেউই নন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে যে দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্তের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। সেই তদন্ত কমিটি মাহফুজের তদবিরের কারণে মাহফুজের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরও আওয়ামী লীগের দাপুটে প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি থামিয়ে দেয়া হয়েছে অদৃশ্য ইশারায়। এসব লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামী রোড, দেওয়ানহাট থেকে এ.কে খান রোড, সাগরিকা স্টেডিয়াম রোড নির্মাণেও দূর্নীতির অভিযোগ আছে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে। পর পর দুটি প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সকে অনিয়ম করে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চুক্তি ও প্রকল্প নকশার বাইরে গিয়ে নতুন করে ১৯৩ কোটি টাকা ‘মূল্য সমন্বয়’ বাবদ দাবি করা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। মেগা ব্যয়ের এই প্রকল্পে নজিরবিহীন খরচের পরও এই অতিরিক্ত অর্থ ছাড় করা হলে তা সরাসরি প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদারের পকেটে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক কমিটির নেতারা জানান, মেগা প্রকল্পের নামে এভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকা লোপাটের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে এই প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন করে ১৯৩ কোটি টাকা দাবির নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

তথ্য সূত্র: প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর এর ফেইসবুক পোস্ট থেকে..