ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জঙ্গল সলিমপুরে গভীর রাতে আবারো প্রশাসনের ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের হামলা,যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ২০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ফৌজদার অস্ত জঙ্গলসলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প লক্ষ্য করে গভীর রাতে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু গোষ্ঠী ‘ইয়াসিন বাহিনী’। এর পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সন্ত্রাসীদের দমনে পুরো পাহাড়ি এলাকা চারদিক থেকে অবরুদ্ধ (কর্ডন) করে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গলসলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত যৌথবাহিনীর অস্থায়ী চৌকি লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি ছুড়তে শুরু করে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ক্যাম্পে দায়িত্বরত সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে অ-প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে সন্ত্রাসীরা পিছু না হটে অনবরত গুলি চালাতে থাকলে যৌথবাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, রাত ১টা থেকে শুরু করে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে প্রচণ্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো খুদে বার্তায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সন্ত্রাসীদের রুখতে জঙ্গলসলিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।”

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতেই জঙ্গলসলিমপুর ও আলীনগরের বিশাল পাহাড়ি এলাকা চারদিক থেকে কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে ফেলেছে যৌথবাহিনী। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যেন কোনো অপরাধী পালিয়ে যেতে না পারে।

টানা গোলাগুলি ও সাঁড়াশি অভিযান চললেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেই হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। এছাড়া ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান বা কোনো সদস্যকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা কৌশলগত কারণে প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি অভিযান শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানানো হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক সংলগ্ন জঙ্গলসলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। জঙ্গলসলিমপুরের সরকারি পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং মাদকের আস্তানা গড়ে তোলার পেছনে দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াসিন বাহিনীর নাম জড়িয়ে রয়েছে। এর আগেও এই এলাকায় অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির (BGB) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের এক বিশাল যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে এই জঙ্গলসলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ‘ইয়াসিন বাহিনীর’ প্রধান মো. ইয়াসিন এবং শীর্ষ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু পলাতক থেকে যায়। যৌথবাহিনীর অভিযানের পর সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিলেও, এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে যৌথবাহিনীর দুটি অস্থায়ী চৌকি বসানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে এবং নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই পলাতক ইয়াসিন বাহিনী গভীর রাতে এই দুঃসাহসিক হামলা চালিয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কু*পিয়ে হ*ত্যা

জঙ্গল সলিমপুরে গভীর রাতে আবারো প্রশাসনের ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের হামলা,যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ২০

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ফৌজদার অস্ত জঙ্গলসলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প লক্ষ্য করে গভীর রাতে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু গোষ্ঠী ‘ইয়াসিন বাহিনী’। এর পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সন্ত্রাসীদের দমনে পুরো পাহাড়ি এলাকা চারদিক থেকে অবরুদ্ধ (কর্ডন) করে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গলসলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত যৌথবাহিনীর অস্থায়ী চৌকি লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি ছুড়তে শুরু করে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ক্যাম্পে দায়িত্বরত সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে অ-প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে সন্ত্রাসীরা পিছু না হটে অনবরত গুলি চালাতে থাকলে যৌথবাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, রাত ১টা থেকে শুরু করে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে প্রচণ্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো খুদে বার্তায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সন্ত্রাসীদের রুখতে জঙ্গলসলিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।”

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতেই জঙ্গলসলিমপুর ও আলীনগরের বিশাল পাহাড়ি এলাকা চারদিক থেকে কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে ফেলেছে যৌথবাহিনী। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যেন কোনো অপরাধী পালিয়ে যেতে না পারে।

টানা গোলাগুলি ও সাঁড়াশি অভিযান চললেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেই হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। এছাড়া ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান বা কোনো সদস্যকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা কৌশলগত কারণে প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি অভিযান শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানানো হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক সংলগ্ন জঙ্গলসলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। জঙ্গলসলিমপুরের সরকারি পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং মাদকের আস্তানা গড়ে তোলার পেছনে দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াসিন বাহিনীর নাম জড়িয়ে রয়েছে। এর আগেও এই এলাকায় অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির (BGB) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের এক বিশাল যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে এই জঙ্গলসলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ‘ইয়াসিন বাহিনীর’ প্রধান মো. ইয়াসিন এবং শীর্ষ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু পলাতক থেকে যায়। যৌথবাহিনীর অভিযানের পর সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিলেও, এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে যৌথবাহিনীর দুটি অস্থায়ী চৌকি বসানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে এবং নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই পলাতক ইয়াসিন বাহিনী গভীর রাতে এই দুঃসাহসিক হামলা চালিয়েছে।