ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

টঙ্গীর এক হৃদয়বিদারক সকাল, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার নবজাতক

গাজীপুরের টঙ্গীর মরকুন মধ্যপাড়ায় এক হৃদয়বিদারক সকাল শুরু হয় ঠিক সাতটায়। স্থানীয়রা রাস্তায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে আসে এক ক্ষীণ, কাঁপা কাঁপা কান্নার শব্দ। প্রথমে কেউ ভাবেন, হয়তো শিশুর কান্না। কিন্তু আশেপাশে কোনো শিশু নেই।

কিছুটা এগিয়ে গিয়ে মানুষ খুঁজতে থাকে, এবং বুঝতে পারে শব্দটি আসছে রাস্তার পাশের নরম মাটির নিচ থেকে। মাটির স্তর সরানোর সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় কাপড়ের মধ্যে মুড়ে রাখা এক নবজাতক। ভয়াবহ হলো, শিশুটির বুকের ওপর রাখা ছিল একটি ইট। জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার শিশুকে মাটিচাপা দেওয়ার এই চেষ্টা সবাইকে স্তম্ভিত করে।

পথচারীরা শিশুটিকে দ্রুত কোলে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় নিঃসন্তান এক নারী শিশুটিকে দত্তক নেন।

পুলিশ তদন্তে উঠে আসে খালেদা (৩০) ও স্বপন (৩৫) দম্পতির নাম। খালেদা স্বীকার করেন, অভাব-অনটনের কারণে তারা জন্মের কয়েক মিনিটের মধ্যে শিশুটিকে মাটিচাপা দিতে চেয়েছিল। দু’জনকেই মানবিক কারণে বাড়িওয়ালার নজরদারিতে রাখা হয়েছে, শিশুটিকে নিরাপদে দত্তক পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাটির নিচ থেকে কান্না বের হয়ে আসা শিশুটি মানবিকতার এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার বেঁচে থাকা আজও এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

টঙ্গীর এক হৃদয়বিদারক সকাল, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার নবজাতক

আপডেট সময় : ০৫:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

গাজীপুরের টঙ্গীর মরকুন মধ্যপাড়ায় এক হৃদয়বিদারক সকাল শুরু হয় ঠিক সাতটায়। স্থানীয়রা রাস্তায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে আসে এক ক্ষীণ, কাঁপা কাঁপা কান্নার শব্দ। প্রথমে কেউ ভাবেন, হয়তো শিশুর কান্না। কিন্তু আশেপাশে কোনো শিশু নেই।

কিছুটা এগিয়ে গিয়ে মানুষ খুঁজতে থাকে, এবং বুঝতে পারে শব্দটি আসছে রাস্তার পাশের নরম মাটির নিচ থেকে। মাটির স্তর সরানোর সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় কাপড়ের মধ্যে মুড়ে রাখা এক নবজাতক। ভয়াবহ হলো, শিশুটির বুকের ওপর রাখা ছিল একটি ইট। জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার শিশুকে মাটিচাপা দেওয়ার এই চেষ্টা সবাইকে স্তম্ভিত করে।

পথচারীরা শিশুটিকে দ্রুত কোলে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় নিঃসন্তান এক নারী শিশুটিকে দত্তক নেন।

পুলিশ তদন্তে উঠে আসে খালেদা (৩০) ও স্বপন (৩৫) দম্পতির নাম। খালেদা স্বীকার করেন, অভাব-অনটনের কারণে তারা জন্মের কয়েক মিনিটের মধ্যে শিশুটিকে মাটিচাপা দিতে চেয়েছিল। দু’জনকেই মানবিক কারণে বাড়িওয়ালার নজরদারিতে রাখা হয়েছে, শিশুটিকে নিরাপদে দত্তক পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাটির নিচ থেকে কান্না বের হয়ে আসা শিশুটি মানবিকতার এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার বেঁচে থাকা আজও এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।