ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প: একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর কতটা ঝুঁকিতে?

ঢাকায় অনুভূত ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে মাঝারি মনে হলেও বাস্তবে এর প্রভাব অনেক গভীর। নরসিংদীর মাধবদী ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, যা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কম্পন ছড়িয়ে দেয়। মাত্রা একই হলেও কোন ভূমিকম্প কতটা ক্ষতি আনবে, তা নির্ভর করে ভূমিকম্পের গভীরতা, কেন্দ্রস্থল, মাটির প্রকৃতি এবং সবচেয়ে বড়—ভবনের নির্মাণমানের ওপর। বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কম্পনই বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার উদাহরণ দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কয়েকটি সম্পূর্ণ ধসে যায়। ইরান-তুরস্ক সীমান্তের ভূমিকম্পে নয়জনের মৃত্যু এবং হাজারেরও বেশি ভবন বিধ্বস্ত হয়। তানজানিয়া, উগান্ডা, রোমানিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে এই মাত্রার ভূমিকম্পে বহু প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধস, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া—এসবই ঘটেছে। অর্থাৎ ৫.৭ মাত্রার কম্পন কখনই হালকাভাবে নেওয়ার মতো নয়।

একটি শহর এ ধরনের ভূমিকম্পে কতটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে?

১. ভবন ও স্থাপনা নিয়ম মেনে নির্মিত রেইনফোর্সড ভবনে সাধারণত দেয়ালে ফাটল বা প্লাস্টার খসে পড়ার মতো ক্ষতি দেখা যায়। কিন্তু পুরোনো বা দুর্বল নির্মাণে দেয়াল ভেঙে পড়া, ছাদ নেমে আসা, ভবন হেলে যাওয়া এমনকি আংশিক ধসের ঝুঁকি থাকে। বালুকাময় এলাকায় মাটিধস বা লিকুইফ্যাকশনের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
২. সড়ক ও অবকাঠামো রাস্তায় ফাটল, সেতুর জয়েন্টে ক্ষতি, ড্রেনেজ লাইন বা গ্যাস লাইনে ভাঙন দেখা দিতে পারে। পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়া বা ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
৩. প্রাণহানি ও আঘাত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন্দ্রস্থল হলে আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে। ভবন ধসের পাশাপাশি আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি, সিঁড়িতে পড়ে যাওয়া, লিফটে আটকা পড়া—এসব কারণেও মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। দুর্বল কাঠামো ধসে প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বড়।

শুধু শারীরিক বা আর্থিক ক্ষতি নয়, ভূমিকম্প মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অনেকে ভূমিকম্প-পরবর্তী ট্রমায় ভোগেন, ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়। শিশু, বৃদ্ধ—সংবেদনশীল গোষ্ঠীর ওপর এর চাপ আরও বেশি। সুতরাং ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পকে ছোট মনে করলেই ভুল হবে। সময়মতো প্রস্তুতি, মানসম্পন্ন নির্মাণ, সচেতনতা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তা—সবই একটি শহরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প: একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর কতটা ঝুঁকিতে?

আপডেট সময় : ০৬:২৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকায় অনুভূত ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে মাঝারি মনে হলেও বাস্তবে এর প্রভাব অনেক গভীর। নরসিংদীর মাধবদী ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, যা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কম্পন ছড়িয়ে দেয়। মাত্রা একই হলেও কোন ভূমিকম্প কতটা ক্ষতি আনবে, তা নির্ভর করে ভূমিকম্পের গভীরতা, কেন্দ্রস্থল, মাটির প্রকৃতি এবং সবচেয়ে বড়—ভবনের নির্মাণমানের ওপর। বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কম্পনই বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার উদাহরণ দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কয়েকটি সম্পূর্ণ ধসে যায়। ইরান-তুরস্ক সীমান্তের ভূমিকম্পে নয়জনের মৃত্যু এবং হাজারেরও বেশি ভবন বিধ্বস্ত হয়। তানজানিয়া, উগান্ডা, রোমানিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে এই মাত্রার ভূমিকম্পে বহু প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধস, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া—এসবই ঘটেছে। অর্থাৎ ৫.৭ মাত্রার কম্পন কখনই হালকাভাবে নেওয়ার মতো নয়।

একটি শহর এ ধরনের ভূমিকম্পে কতটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে?

১. ভবন ও স্থাপনা নিয়ম মেনে নির্মিত রেইনফোর্সড ভবনে সাধারণত দেয়ালে ফাটল বা প্লাস্টার খসে পড়ার মতো ক্ষতি দেখা যায়। কিন্তু পুরোনো বা দুর্বল নির্মাণে দেয়াল ভেঙে পড়া, ছাদ নেমে আসা, ভবন হেলে যাওয়া এমনকি আংশিক ধসের ঝুঁকি থাকে। বালুকাময় এলাকায় মাটিধস বা লিকুইফ্যাকশনের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
২. সড়ক ও অবকাঠামো রাস্তায় ফাটল, সেতুর জয়েন্টে ক্ষতি, ড্রেনেজ লাইন বা গ্যাস লাইনে ভাঙন দেখা দিতে পারে। পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়া বা ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
৩. প্রাণহানি ও আঘাত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন্দ্রস্থল হলে আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে। ভবন ধসের পাশাপাশি আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি, সিঁড়িতে পড়ে যাওয়া, লিফটে আটকা পড়া—এসব কারণেও মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। দুর্বল কাঠামো ধসে প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বড়।

শুধু শারীরিক বা আর্থিক ক্ষতি নয়, ভূমিকম্প মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অনেকে ভূমিকম্প-পরবর্তী ট্রমায় ভোগেন, ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়। শিশু, বৃদ্ধ—সংবেদনশীল গোষ্ঠীর ওপর এর চাপ আরও বেশি। সুতরাং ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পকে ছোট মনে করলেই ভুল হবে। সময়মতো প্রস্তুতি, মানসম্পন্ন নির্মাণ, সচেতনতা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তা—সবই একটি শহরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।