ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২
দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

ঝুট-তেল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বিএনপি নেতা আব্বাসের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এক যুগ আগের ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস। অভিযোগ রয়েছে, গতবছর অভ্যুত্থানের পর তিনি বিভিন্ন পোশাক কারখানার উচ্ছিষ্ট কাপড় বা ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এছাড়া নদীপথে চোরাই তেলসহ বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ব্যবসা ও নদীর ঘাট তাঁর অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণ চেষ্টারঅভিযোগ উঠেছে। এর আগে আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে কর্ণফুলীতে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতারা।তবে অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি পাল্টে গিয়ে বহু কারখানার ঝুট ব্যবসার দায়িত্ব চলে যায় বিএনপি নেতা আলী আব্বাসের কাছে।

গত বছরের ২৭ আগস্ট ফোর এইচ গ্রুপের একটি চিঠিতে দেখা যায়, গ্রুপটির দুটি তৈরি পোশাক কারখানা-‘ব্যালামী টেক্সটাইলস লিমিটেড’ ও ‘ডিভাইন ইন্টিমেটস লিমিটেড’-এর বাতিলকৃত ঝুটের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএনপি নেতা আব্বাস আলীকে। একইসঙ্গে ইন্টিমেটস ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্লাস্টিক কারখানার বাতিল মালামালের তদারকির দায়িত্বও বিএনপি ওই নেতাকে দেয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এসব কারখানায় প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি ঝুট বেচাকেনা হয়। এদিকে অভ্যুত্থানের পর নদীর ঘাট নিয়ন্ত্রণ, তেল ওঠানোর সিরিয়াল ও চোরাই তেলের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা লেগেই আছে। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, উত্তেজনার জেরে গত ২৮ মে নদীর জুলধা এলাকার বিওসি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজনৈতিক সূত্র বলছে, চোরাই তেলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ বিএনপি স্থানীয় এস নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আলী আব্বাসের অনুসারীরা সেটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলী আব্বাস। তিনি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা। আমি এসবের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলাম না, এখনও নাই। আমার অনুসারীদের কেউ যদি এই ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে আমি বলব তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

ঝুট-তেল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বিএনপি নেতা আব্বাসের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এক যুগ আগের ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস। অভিযোগ রয়েছে, গতবছর অভ্যুত্থানের পর তিনি বিভিন্ন পোশাক কারখানার উচ্ছিষ্ট কাপড় বা ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এছাড়া নদীপথে চোরাই তেলসহ বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ব্যবসা ও নদীর ঘাট তাঁর অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণ চেষ্টারঅভিযোগ উঠেছে। এর আগে আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে কর্ণফুলীতে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতারা।তবে অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি পাল্টে গিয়ে বহু কারখানার ঝুট ব্যবসার দায়িত্ব চলে যায় বিএনপি নেতা আলী আব্বাসের কাছে।

গত বছরের ২৭ আগস্ট ফোর এইচ গ্রুপের একটি চিঠিতে দেখা যায়, গ্রুপটির দুটি তৈরি পোশাক কারখানা-‘ব্যালামী টেক্সটাইলস লিমিটেড’ ও ‘ডিভাইন ইন্টিমেটস লিমিটেড’-এর বাতিলকৃত ঝুটের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএনপি নেতা আব্বাস আলীকে। একইসঙ্গে ইন্টিমেটস ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্লাস্টিক কারখানার বাতিল মালামালের তদারকির দায়িত্বও বিএনপি ওই নেতাকে দেয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এসব কারখানায় প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি ঝুট বেচাকেনা হয়। এদিকে অভ্যুত্থানের পর নদীর ঘাট নিয়ন্ত্রণ, তেল ওঠানোর সিরিয়াল ও চোরাই তেলের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা লেগেই আছে। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, উত্তেজনার জেরে গত ২৮ মে নদীর জুলধা এলাকার বিওসি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজনৈতিক সূত্র বলছে, চোরাই তেলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ বিএনপি স্থানীয় এস নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আলী আব্বাসের অনুসারীরা সেটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলী আব্বাস। তিনি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা। আমি এসবের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলাম না, এখনও নাই। আমার অনুসারীদের কেউ যদি এই ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে আমি বলব তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।