ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তায় ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি (আইএসপিএস) কোড বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের বাস্তবায়ন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২১–২২ জানুয়ারি ইউএস কোস্টগার্ডের আইপিএস দল দুই দিনব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। এরপর ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএস প্রেরিত পরিদর্শন রিপোর্টে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ (জিরো অবজারভেশন) দেয়নি।

সাধারণত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে পরিদর্শক দল প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিদর্শন প্রতিবেদনে কোনো পর্যবেক্ষণ উল্লেখ না করায় (জিরো অবজারবেশন) প্রমাণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ আইএসপিএস কোড যথাযথভাবে কার্যকর করেছে। যা বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অর্জন।

আইএসপিএস কোড হলো ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) প্রণীত একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো, যার মূল উদ্দেশ্য হলো জাহাজ ও বন্দর স্থাপনাগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। এ কোড বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দর ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা সুদৃঢ় করে।

পরিদর্শনকালে ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএস প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নের অবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বন্দর এলাকায় গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পেশাদার জনবল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়।

পরিদর্শন প্রতিবেদন ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের সফল ও কার্যকর বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান ও সক্ষমতা আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দর ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, সিসিটিভি নজরদারি, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী এবং আইএসপিএস মনিটরিং সেলের কার্যকর ভূমিকা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই নিরাপত্তা-মান বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে সব স্টেকহোল্ডার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখা ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিচারকের ছোড়া পেপারওয়েটের আঘাতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুতর আহত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন

আপডেট সময় : ০৮:১১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তায় ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি (আইএসপিএস) কোড বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের বাস্তবায়ন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২১–২২ জানুয়ারি ইউএস কোস্টগার্ডের আইপিএস দল দুই দিনব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। এরপর ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএস প্রেরিত পরিদর্শন রিপোর্টে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ (জিরো অবজারভেশন) দেয়নি।

সাধারণত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে পরিদর্শক দল প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিদর্শন প্রতিবেদনে কোনো পর্যবেক্ষণ উল্লেখ না করায় (জিরো অবজারবেশন) প্রমাণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ আইএসপিএস কোড যথাযথভাবে কার্যকর করেছে। যা বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অর্জন।

আইএসপিএস কোড হলো ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) প্রণীত একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো, যার মূল উদ্দেশ্য হলো জাহাজ ও বন্দর স্থাপনাগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। এ কোড বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দর ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা সুদৃঢ় করে।

পরিদর্শনকালে ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএস প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নের অবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বন্দর এলাকায় গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পেশাদার জনবল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়।

পরিদর্শন প্রতিবেদন ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন চট্টগ্রাম বন্দরে আইএসপিএস কোডের সফল ও কার্যকর বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান ও সক্ষমতা আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দর ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, সিসিটিভি নজরদারি, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী এবং আইএসপিএস মনিটরিং সেলের কার্যকর ভূমিকা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই নিরাপত্তা-মান বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে সব স্টেকহোল্ডার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখা ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে।