
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পুনব্যক্ত করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই দেশে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচন নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং তারা এসব অপতথ্য শনাক্ত করতে পারছে। মার্কিন কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস এ সময় একমত পোষণ করে বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের প্রধান শত্রুদের অন্যতম হলো এই ‘ভুয়া খবর’।
বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ (সত্য ও পুনর্মিলন) উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রক্রিয়া তখনই সম্ভব যখন অপরাধী তার ভুল স্বীকার করে এবং অনুতপ্ত হয়। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী তাদের বর্বরোচিত অপরাধ অস্বীকার করছে এবং নিহত তরুণদেরই সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই, তাই এই মুহূর্তে এমন উদ্যোগের সময় এখনো আসেনি।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, সরকার বর্তমানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে ‘জুলাই সনদ’ দেশে স্বৈরশাসনের পথ চিরতরে বন্ধ করে গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, রোহিঙ্গা সংকট এবং তরুণদের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু স্থান পায়।
ডেক্স নিউজ/নিউজ টুডে 




























