ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

তারাগঞ্জে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহ যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে এর অপব্যবহারের কারণে অনেক সময় মিথ্যা তথ্য, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা শেয়ার করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং তথ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় গুজব প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠক ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং ইতিবাচক অনলাইন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গুজব প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সচেতনতা এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখেই তা বিশ্বাস বা প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই গুজব ও অপপ্রচারমুক্ত একটি সচেতন সমাজ গঠন সম্ভব।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নারী ইউপি সদস্যকে মারধরের মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

তারাগঞ্জে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৫:১০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহ যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে এর অপব্যবহারের কারণে অনেক সময় মিথ্যা তথ্য, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা শেয়ার করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং তথ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় গুজব প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠক ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং ইতিবাচক অনলাইন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গুজব প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সচেতনতা এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখেই তা বিশ্বাস বা প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই গুজব ও অপপ্রচারমুক্ত একটি সচেতন সমাজ গঠন সম্ভব।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।