ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

লালমনিরহাটে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

লালমনিরহাটের আদিতমারী সরকরি জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকেরা হলেন সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (তথ্যপ্রযুক্তি) জাহিদ ইমাম শান্ত ও একই প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক (টেকনিক্যাল) নারায়ণ চন্দ্র।
গত ২১ জুন দুপুরে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র প্রতিষ্ঠানের পাশে রুম ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট পড়ান । তিনি সেখানে পড়তে যাওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ।
ভুক্তভুগি ছাত্রী বিষয়টি বাড়িতে জানালে ছাত্রীর অভিভাবক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রথমে মৌখিক পরে গত ১৪ জুন লিখিত অভিযোগ করে।
অপর এক অভিযোগে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্তর বাসা বিদ্যলয়ের কাছেই। সেখানে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে। প্রাইভেট পড়তে যাওয়া নবম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখার এক ছাত্রী অভিযোগ করে শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত তাকে ধর্ষণ করেছে। ছাত্রীটি আরও জানায়, বাড়িতে শিক্ষকের তাঁর স্ত্রী-সন্তান না থাকলেই, ভয়ভীতি আর নম্বর বেশি দেওয়ার কথা বলে তাকে ধর্ষণ করত।
ঘটনাটি জানাজানি হলে জাহিদ ইমাম শান্ত কর্তৃক ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থী পরের দিন ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করে।
দুটি ঘটনাই কিছু দিন গোপন থাকলেও ১৭ জুন ঘটনাদুটি প্রকাশ পায়। এ ঘটনা তদন্তে ১৭ জুন তিন সদস্য করে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকদের শোকজ করলেও শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁদের ২৫ জুন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়।
অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত বলেন, আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি চক্র ওই ছাত্রীকে দিয়ে ফাসিয়ে দিয়েছে। আমি ভোকেশনাল শাখার ক্লাস বা প্রাইভেট কোনোটাই পড়াই না। যে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, সে আমার প্রাইভেটেও আসে না।

অভিযুক্ত ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক (টেকনিক্যাল) নারায়ণ চন্দ্রকে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আরা সিদ্দিকা জানান, মৌখিকের পরে লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়টির সভাপতি আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তদন্ত কমিটি করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন এলে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। তারা ব্যবস্থা নেবে।,
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

১১৫ দিন পর ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ৩১ নাবিকের অপেক্ষার অবসান

লালমনিরহাটে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

লালমনিরহাটের আদিতমারী সরকরি জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকেরা হলেন সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (তথ্যপ্রযুক্তি) জাহিদ ইমাম শান্ত ও একই প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক (টেকনিক্যাল) নারায়ণ চন্দ্র।
গত ২১ জুন দুপুরে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র প্রতিষ্ঠানের পাশে রুম ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট পড়ান । তিনি সেখানে পড়তে যাওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ।
ভুক্তভুগি ছাত্রী বিষয়টি বাড়িতে জানালে ছাত্রীর অভিভাবক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রথমে মৌখিক পরে গত ১৪ জুন লিখিত অভিযোগ করে।
অপর এক অভিযোগে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্তর বাসা বিদ্যলয়ের কাছেই। সেখানে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়ে। প্রাইভেট পড়তে যাওয়া নবম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখার এক ছাত্রী অভিযোগ করে শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত তাকে ধর্ষণ করেছে। ছাত্রীটি আরও জানায়, বাড়িতে শিক্ষকের তাঁর স্ত্রী-সন্তান না থাকলেই, ভয়ভীতি আর নম্বর বেশি দেওয়ার কথা বলে তাকে ধর্ষণ করত।
ঘটনাটি জানাজানি হলে জাহিদ ইমাম শান্ত কর্তৃক ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থী পরের দিন ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করে।
দুটি ঘটনাই কিছু দিন গোপন থাকলেও ১৭ জুন ঘটনাদুটি প্রকাশ পায়। এ ঘটনা তদন্তে ১৭ জুন তিন সদস্য করে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকদের শোকজ করলেও শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁদের ২৫ জুন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়।
অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত বলেন, আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি চক্র ওই ছাত্রীকে দিয়ে ফাসিয়ে দিয়েছে। আমি ভোকেশনাল শাখার ক্লাস বা প্রাইভেট কোনোটাই পড়াই না। যে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, সে আমার প্রাইভেটেও আসে না।

অভিযুক্ত ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক (টেকনিক্যাল) নারায়ণ চন্দ্রকে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আরা সিদ্দিকা জানান, মৌখিকের পরে লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়টির সভাপতি আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তদন্ত কমিটি করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন এলে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। তারা ব্যবস্থা নেবে।,
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।