
এখানে ‘ধারণা’ শব্দটি ‘অভিযোগ’ অর্থে ব্যবহূত হওয়ার প্রমাণ হলো, এর পরেই বলা হয়েছে, ‘তোমরা গোপন অনুসন্ধান করো না।’ কারণ প্রথমে কারো সম্পর্কে মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, এরপর সেই সন্দেহ সত্য কি না তা জানার জন্য তার গোপন বিষয় অনুসন্ধান করা, খোঁজ-খবর নেওয়া কিংবা কান পেতে শোনা শুরু হয়। এ কারণেই মহানবী (সা.) এ ধরনের আচরণ থেকে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা ধারণা-সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকো; কারণ ধারণা সবচেয়ে মিথ্যা কথার অন্তভর্ুক্ত। তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না, গুপ্তচরবৃত্তি করো না, পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো না, হিংসা করো না, বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করো না। বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে থাকো।’ (বুখারি, হাদিস : ৫১৪৩)
এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, যে সন্দেহের পক্ষে কোনো সঠিক আলামত বা দৃশ্যমান কারণ নেই, তা থেকে বিরত থাকা এবং এমন সন্দেহ পোষণ করা হারাম। যদি কোনো ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে সত্, গোপনীয়তা রক্ষাকারী এবং বিশ্বস্ত হিসেবে দেখা যায়, তাহলে তার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ ছাড়া দুর্নীতি বা বিশ্বাসঘাতকতার ধারণা করা নিষদ্ধি। তবে যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে সন্দেহজনক ও নিন্দনীয় কাজে অভ্যস্ত হিসেবে পরিচিত, তার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। হাসান (রহ.) বলেছেন : ‘আমরা এমন এক সময়ে ছিলাম, যখন মানুষের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করা হারাম ছিল। আর আজ তোমরা এমন সময়ে আছো-নিজের কাজ করো, নীরব থাকো, আর মানুষের সম্পর্কে যা ইচ্ছা ধারণা করো।’ (আল-জামি লি-আহকামিল কোরআন, খণ্ড ২০, পৃষ্ঠা ৩৮০)
অতএব, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি এমন কোনো সন্দেহ, অস্পষ্টতা বা গ্রহণযোগ্য কারণ থাকে, যা তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সদ্ধিান্ত গ্রহণে বাধা দেয়, তাহলে সেই সন্দেহের কারণে শাসি্তর সদ্ধিান্ত থেকে বিরত থাকতে হবে।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাধ্যানুযায়ী তোমরা মুসলিমদের দণ্ড প্রদান পরিহার করে চলো। কোনো ধরনের সুযোগ থাকলে তাকে দণ্ড থেকে পরিত্রাণ দাও। কেননা ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) শাসি্ত প্রদানে ভুল করার চাইতে মাফ করে দেওয়ার ভুল উত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪২৪
প্রতিনিধির নাম 




























