
সম্প্রতি ‘এমজি জেডব্লিউ অটোমোবাইল পাকিস্তান’ এবং বাংলাদেশের একটি কম্পানির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত করেছে। এর আওতায় এই বছর ১০০টি গাড়ি আমদানি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানে সংযোজিত একটি ‘এমজি’ গাড়িকে একটি সাধারণ স্কোরকার্ডের ভিত্তিতে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার সমমানের গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিবেচনা হওয়া উচিত গাড়িতে কয়টি এয়ারব্যাগ আছে? মডেলটিতে কি এবিএস এবং ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল আছে? ক্র্যাশ-টেস্টে এর পারফরম্যান্স কেমন? এটি কোন নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করে? ওয়ারেন্টির মেয়াদ কতদিন? জ্বালানি বা বিদ্যুৎ বাবদ আনুমানিক খরচ কত হবে? খুচরা যন্ত্রাংশ কতটা সহজে পাওয়া যাবে? তিন, পাঁচ বা সাত বছর পর সার্ভিসিং খরচ কেমন হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- শুল্ক, কর, নিবন্ধন, ফাইন্যান্সিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের পর গাড়িটির জন্য একজন ক্রেতার প্রকৃতপক্ষে মোট কত খরচ হবে? একই নীতি বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বড় আকারের কোনো আমদানি কর্মসূচি অনুমোদন করার আগে বাংলাদেশের জানা উচিত- কে ওয়ারেন্টির নিশ্চয়তা দেবে, গাড়ির ত্রুটিজনিত কারণে তা তুলে নেওয়ার খরচ কে বহন করবে, কত দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা যাবে এবং ঢাকার বাইরে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম পাওয়া যাবে কি না।
যানবাহন আমদানির জন্য বাংলাদেশের ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অটোমোবাইল নীতিতে গাড়ির গুণমান, নিরাপত্তা এবং নির্গমন মানদণ্ড প্রণয়ন ও প্রয়োগের ওপর স্পষ্টভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সেই ব্যবস্থাগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত। এখানে আরো বড় একটি অর্থনৈতিক সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ যদি তার নিজস্ব অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ ঘটাতে চায়, তবে তাকে কৌশলগতভাবে এই আমদানি প্রস্তাবকে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশি নির্মাতাদের কেবল তৈরি গাড়ি বিক্রির জন্য নয়; বরং বাংলাদেশে সংযোজন কারখানা স্থাপন, স্থানীয় সরবরাহকারী গড়ে তোলা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে যন্ত্রাংশ তৈরি করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ফলে প্রতিযোগিতাকে একটি শিল্প-নীতি কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রতিনিধির নাম 




























