ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ কি পাকিস্তানি গাড়ির পরীক্ষামূলক বাজার হবে?

বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানে সংযোজিত গাড়ি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ একদিকে যেমন ক্রেতাদের সামনে বিকল্প বাড়াতে পারে, তেমনি অনেকগুলো বাণিজ্য কৌশল নিয়েও আলোচনাকে সামনে এনেছে।শুধু গাড়ি নয়, যে কোনো পণ্য আমিদানির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়; পণ্যের গুণগত মানই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনা। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রেতাদের স্বার্থ, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ও বিকাশের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
সম্প্রতি ‘এমজি জেডব্লিউ অটোমোবাইল পাকিস্তান’ এবং বাংলাদেশের একটি কম্পানির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত করেছে। এর আওতায় এই বছর ১০০টি গাড়ি আমদানি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী চার বছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৮০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবকে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উষ্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। পাকিস্তানের গাড়ি শিল্প সম্প্রসারণের জন্য এটি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে বাংলাদেশের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি কেবল পাকিস্তানি গাড়ি বাজারে প্রবেশ করা উচিত কি না; তা নয়।বরং প্রশ্নটি হলো, এই গাড়িগুলো বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য মূল্য, নিরাপত্তা, গুণমান, প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিক্রয়োত্তর সেবার সেরা সমন্বয় দিতে পারছে কিনা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তার ক্রেতাদের জন্য আরও ভালো সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে কি না; এটি তার একটি কার্যকর পরীক্ষাও হতে পারে।বাংলাদেশকে গাড়ি বাজারে প্রতিযোগিতাকে অবশ্যই স্বাগত জানানো উচিত। তবে একই সঙ্গে চারপাশের অন্যান্য সুযোগগুলোও খতিয়ে দেখা দরকার। উদ্দেশ্য যদি ক্রেতাদের আরো বেশি বিকল্প এবং সাশ্রয়ী মূল্য দেওয়া হয়; তবে ঢাকার জন্য এই খোঁজ কেবল পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো কারণ নেই।
বাংলাদেশের উচিত ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতাপূর্ণ গাড়ি নির্মাণকারী দেশের যানবাহন ও বাণিজ্যিক প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সক্রিয়ভাবে তুলনা করা। বাজার কে দখল করবে, সেটা বাজারঈ ঠিক করবে, কূটনীতি নয়।পাকিস্তান নিজেই এখনো তার অটোমোটিভ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির ইঞ্জিনিয়ারিং ডেভেলপমেন্ট বোর্ড স্থানীয়ভাবে তৈরি ও সংযোজিত গাড়ির জন্য নিরাপত্তা, গুণমান এবং পরিবেশগত মানদণ্ড চালু করে। একই সময়ে, সংসদীয় আলোচনায় গাড়ির গুণমান তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও এসেছে। ২০২৫ সালের একটি সংসদীয় আলোচনায় আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছিল, পাকিস্তানি নির্মাতা ও সংযোজনকারীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ২০০টি গাড়ি নিরাপত্তা মানদণ্ডের মধ্যে মাত্র ১৮টি মেনে চলে। অবশ্য এই তথ্যটিকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত; কারণ এটি প্রতিটি পাকিস্তানি গাড়ির কোনো স্বাধীন নিরীক্ষা ছিল না। বরং একটি সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপিত তথ্য ছিল। তারপরও বাংলাদেশের উচিত গাড়ির গুণমান সম্পর্কে ঢালাও আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে, প্রতিটি মডেল ধরে ধরে মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টি পরীক্ষা করা। ঢাকার জন্য প্রশ্নটি খুবই সহজ ও স্পষ্ট- বাংলাদেশে যে মডেলের গাড়ি রপ্তানির প্রস্তাব করা হচ্ছে, সেটি কি বাংলাদেশের এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা, নির্গমন ও কারিগরি প্রয়োজনীয়তাগুলো পূরণ করে? এবং এই মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টি কি স্বাধীনভাবে প্রমাণ করা সম্ভব?প্রশ্নটা পাকিস্তানের পক্ষ-বিপক্ষের নয়। এটি ক্রেতাদের সুরক্ষার একটি মৌলিক বিষয়। পাকিস্তানের সড়ক নিরাপত্তার রেকর্ডটির প্রেক্ষাপটও এখানে প্রাসঙ্গিক। ২০২১ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১১ দশমিক ৯ জন। তবে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ থাকে; যার মধ্যে চালকের আচরণ, সড়কের অবস্থা, আইনের প্রয়োগ, গাড়ির অবস্থা এবং জরুরি উদ্ধার সেবা অন্যতম। এই ধরনের প্রমাণ এটি নিশ্চিত করে না যে পাকিস্তানি যাত্রীবাহী গাড়িগুলো স্বভাবগতভাবেই অনিরাপদ। তবে এটি গাড়ির নিরাপত্তা এবং যান্ত্রিক মানদণ্ডের কঠোর পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তাকে আরো জোরালো করে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘মেড ইন পাকিস্তান’ শব্দগুচ্ছের আড়ালে যেন বাস্তবতা হারিয়ে না যায়। ‘এমজি জেডব্লিউ অটোমোবাইল পাকিস্তান’ মূলত ‘জেডব্লিউ-এসইজেড’ এবং ‘এসএআইসি’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক অটোমোটিভ সাপ্লাই চেইনের অংশ। একটি গাড়ি পাকিস্তানে সংযোজিত হওয়ার মানে এই নয় যে এর ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি বা যন্ত্রাংশগুলো সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানি। অতএব, বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত মাপকাঠি কোন দেশে সংযোজিত তা নয়, আসল বিবেচনা হওয়া উচিত গাড়িটি কেমন সেটি।

পাকিস্তানে সংযোজিত একটি ‘এমজি’ গাড়িকে একটি সাধারণ স্কোরকার্ডের ভিত্তিতে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার সমমানের গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিবেচনা হওয়া উচিত গাড়িতে কয়টি এয়ারব্যাগ আছে? মডেলটিতে কি এবিএস এবং ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল আছে? ক্র্যাশ-টেস্টে এর পারফরম্যান্স কেমন? এটি কোন নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করে? ওয়ারেন্টির মেয়াদ কতদিন? জ্বালানি বা বিদ্যুৎ বাবদ আনুমানিক খরচ কত হবে? খুচরা যন্ত্রাংশ কতটা সহজে পাওয়া যাবে? তিন, পাঁচ বা সাত বছর পর সার্ভিসিং খরচ কেমন হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- শুল্ক, কর, নিবন্ধন, ফাইন্যান্সিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের পর গাড়িটির জন্য একজন ক্রেতার প্রকৃতপক্ষে মোট কত খরচ হবে? একই নীতি বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বড় আকারের কোনো আমদানি কর্মসূচি অনুমোদন করার আগে বাংলাদেশের জানা উচিত- কে ওয়ারেন্টির নিশ্চয়তা দেবে, গাড়ির ত্রুটিজনিত কারণে তা তুলে নেওয়ার খরচ কে বহন করবে, কত দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা যাবে এবং ঢাকার বাইরে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম পাওয়া যাবে কি না।

তাই প্রস্তাবিত ৫ হাজার ৮০০ ইউনিটের আমদানি কর্মসূচিটি প্রধান অটোমোবাইল বাজারের তুলনায় ছোট হলেও, এর বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা ও ঝুঁকি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার জন্য যথেষ্ট বড়। পাকিস্তানের বর্তমান রপ্তানি রেকর্ড এ বিষয়ে একটি দরকারি প্রেক্ষাপট তৈরি করে। পাকিস্তানের সিনেটে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে ২০টি দেশে পাকিস্তান স্থানীয়ভাবে সংযোজিত মাত্র ৪৩৪টি গাড়ি রপ্তানি করেছে। এই গন্তব্যগুলোর মধ্যে ছিল জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ। এই পরিসংখ্যানের পাশে চার বছরে বাংলাদেশে ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাকে একটু বেশি আগ্রাসী ও উচ্চাকাঙ্খী মানতে হবে। পাকিস্তানের অটোমোটিভ রপ্তানির পরিমাণ এখনো বেশ সীমিত। ফলে বাংলাদেশের এই প্রস্তাবিত কর্মসূচিটি সফল হলে তা পাকিস্তানের যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য হবে। ঠিক এই কারণেই বাংলাদেশের উচিত প্রথম চালানের গাড়িগুলোকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা।যদি গাড়িগুলো ভালো পারফর্ম করে, তবে ক্রেতারাই লাভবান হবেন। বিদ্যমান গাড়ি পরিবেশকরা আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়বেন। গাড়ির দাম আরো সাশ্রয়ী হতে পারে, সুযোগ-সুবিধা ও সরঞ্জামের মান বাড়তে পারে এবং নির্মাতাদের আরো ভালো ওয়ারেন্টি ও সেবা দিতে হতে পারে। তাতে শেষ পর্যন্ত ক্রেতারাই লাভবান হবেন।তবে একই সঙ্গে অন্যান্য গাড়ি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকেও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব আহ্বান করার জন্য ঢাকার উচিত পাকিস্তানের এই চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হওয়া সুযোগটিকে কাজে লাগানো। চীন যদি কম খরচে আরো উন্নত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক গাড়ি দিতে পারে, ভারত যদি একটি প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে কমপ্যাক্ট গাড়ি দিতে পারে, থাইল্যান্ড বা ইন্দোনেশিয়া যদি আরো শক্তিশালী উৎপাদন গুণমান এবং যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে পারে, জাপানি বা কোরিয়ান নির্মাতারা যদি গাড়ির দীর্ঘস্থায়ী মেয়াদে চমৎকার নির্ভরযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা দিতে পারে; তবে বাংলাদেশের উচিত সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। যাতে ক্রেতাদের বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত একটি প্রতিযোগিতামূলক সোর্সিং কৌশল তৈরি করা। কেবল ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বাংলাদেশের ক্রেতারা যাতে অর্থপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে লাভবান হতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি আমদানিকারককে একই ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা, নির্গমন বিধি, পরীক্ষা পদ্ধতি এবং ক্রেতা-সুরক্ষার বাধ্যবাধকতার মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিটি প্রস্তুতকারককে তাদের ওয়ারেন্টির শর্তাবলী এবং ত্রুটিজনিত কারণে গাড়ি তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা স্পষ্ট করতে হবে এবং প্রতিটি গাড়িকে তার নিজস্ব কারিগরি যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।

যানবাহন আমদানির জন্য বাংলাদেশের ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অটোমোবাইল নীতিতে গাড়ির গুণমান, নিরাপত্তা এবং নির্গমন মানদণ্ড প্রণয়ন ও প্রয়োগের ওপর স্পষ্টভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সেই ব্যবস্থাগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত। এখানে আরো বড় একটি অর্থনৈতিক সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ যদি তার নিজস্ব অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ ঘটাতে চায়, তবে তাকে কৌশলগতভাবে এই আমদানি প্রস্তাবকে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশি নির্মাতাদের কেবল তৈরি গাড়ি বিক্রির জন্য নয়; বরং বাংলাদেশে সংযোজন কারখানা স্থাপন, স্থানীয় সরবরাহকারী গড়ে তোলা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে যন্ত্রাংশ তৈরি করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ফলে প্রতিযোগিতাকে একটি শিল্প-নীতি কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।

পাকিস্তানি গাড়িগুলো যদি দেশের মানদণ্ড পূরণ করে এবং ক্রেতাদের প্রকৃত মূল্য দিতে পারে, তবে বাংলাদেশের সেগুলোকে স্বাগত জানানো উচিত। তবে ঢাকার উচিত একই সঙ্গে অন্যান্য দেশ এবং নির্মাতাদের কাছ থেকেও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব আহ্বান করা। প্রশ্নটি কখনোই এটি হওয়া উচিত নয় যে, বাংলাদেশ কোন দেশকে বেশি সুবিধা দেবে? বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত, কোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি বাংলাদেশি ক্রেতাদের সবচেয়ে নিরাপদ, সুসজ্জিত এবং নির্ভরযোগ্য গাড়িটি দিতে পারছে; যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হবে সবচেয়ে সাশ্রয়ী? বিকাশমান বা ক্রমবর্ধমান একটি ক্রেতাবাজারের জন্য ঠিক এই মানদণ্ডটিই প্রাপ্য। বাণিজ্য কূটনীতি হয়তো সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে, তবে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ অটোমোবাইল বাজারে কোন গাড়িগুলো রাস্তায় চলবে তা কূটনীতিকরা নন, বরং চূড়ান্তভাবে ক্রেতারাই নির্ধারণ করবেন। সোর্স: কালের কণ্ঠ
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ কি পাকিস্তানি গাড়ির পরীক্ষামূলক বাজার হবে?

আপডেট সময় : ১০:২৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানে সংযোজিত গাড়ি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ একদিকে যেমন ক্রেতাদের সামনে বিকল্প বাড়াতে পারে, তেমনি অনেকগুলো বাণিজ্য কৌশল নিয়েও আলোচনাকে সামনে এনেছে।শুধু গাড়ি নয়, যে কোনো পণ্য আমিদানির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়; পণ্যের গুণগত মানই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচনা। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রেতাদের স্বার্থ, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ও বিকাশের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
সম্প্রতি ‘এমজি জেডব্লিউ অটোমোবাইল পাকিস্তান’ এবং বাংলাদেশের একটি কম্পানির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত করেছে। এর আওতায় এই বছর ১০০টি গাড়ি আমদানি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী চার বছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৮০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবকে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উষ্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। পাকিস্তানের গাড়ি শিল্প সম্প্রসারণের জন্য এটি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে বাংলাদেশের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি কেবল পাকিস্তানি গাড়ি বাজারে প্রবেশ করা উচিত কি না; তা নয়।বরং প্রশ্নটি হলো, এই গাড়িগুলো বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য মূল্য, নিরাপত্তা, গুণমান, প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিক্রয়োত্তর সেবার সেরা সমন্বয় দিতে পারছে কিনা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তার ক্রেতাদের জন্য আরও ভালো সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে কি না; এটি তার একটি কার্যকর পরীক্ষাও হতে পারে।বাংলাদেশকে গাড়ি বাজারে প্রতিযোগিতাকে অবশ্যই স্বাগত জানানো উচিত। তবে একই সঙ্গে চারপাশের অন্যান্য সুযোগগুলোও খতিয়ে দেখা দরকার। উদ্দেশ্য যদি ক্রেতাদের আরো বেশি বিকল্প এবং সাশ্রয়ী মূল্য দেওয়া হয়; তবে ঢাকার জন্য এই খোঁজ কেবল পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো কারণ নেই।
বাংলাদেশের উচিত ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতাপূর্ণ গাড়ি নির্মাণকারী দেশের যানবাহন ও বাণিজ্যিক প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সক্রিয়ভাবে তুলনা করা। বাজার কে দখল করবে, সেটা বাজারঈ ঠিক করবে, কূটনীতি নয়।পাকিস্তান নিজেই এখনো তার অটোমোটিভ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির ইঞ্জিনিয়ারিং ডেভেলপমেন্ট বোর্ড স্থানীয়ভাবে তৈরি ও সংযোজিত গাড়ির জন্য নিরাপত্তা, গুণমান এবং পরিবেশগত মানদণ্ড চালু করে। একই সময়ে, সংসদীয় আলোচনায় গাড়ির গুণমান তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও এসেছে। ২০২৫ সালের একটি সংসদীয় আলোচনায় আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছিল, পাকিস্তানি নির্মাতা ও সংযোজনকারীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ২০০টি গাড়ি নিরাপত্তা মানদণ্ডের মধ্যে মাত্র ১৮টি মেনে চলে। অবশ্য এই তথ্যটিকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত; কারণ এটি প্রতিটি পাকিস্তানি গাড়ির কোনো স্বাধীন নিরীক্ষা ছিল না। বরং একটি সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপিত তথ্য ছিল। তারপরও বাংলাদেশের উচিত গাড়ির গুণমান সম্পর্কে ঢালাও আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে, প্রতিটি মডেল ধরে ধরে মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টি পরীক্ষা করা। ঢাকার জন্য প্রশ্নটি খুবই সহজ ও স্পষ্ট- বাংলাদেশে যে মডেলের গাড়ি রপ্তানির প্রস্তাব করা হচ্ছে, সেটি কি বাংলাদেশের এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা, নির্গমন ও কারিগরি প্রয়োজনীয়তাগুলো পূরণ করে? এবং এই মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টি কি স্বাধীনভাবে প্রমাণ করা সম্ভব?প্রশ্নটা পাকিস্তানের পক্ষ-বিপক্ষের নয়। এটি ক্রেতাদের সুরক্ষার একটি মৌলিক বিষয়। পাকিস্তানের সড়ক নিরাপত্তার রেকর্ডটির প্রেক্ষাপটও এখানে প্রাসঙ্গিক। ২০২১ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১১ দশমিক ৯ জন। তবে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ থাকে; যার মধ্যে চালকের আচরণ, সড়কের অবস্থা, আইনের প্রয়োগ, গাড়ির অবস্থা এবং জরুরি উদ্ধার সেবা অন্যতম। এই ধরনের প্রমাণ এটি নিশ্চিত করে না যে পাকিস্তানি যাত্রীবাহী গাড়িগুলো স্বভাবগতভাবেই অনিরাপদ। তবে এটি গাড়ির নিরাপত্তা এবং যান্ত্রিক মানদণ্ডের কঠোর পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তাকে আরো জোরালো করে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘মেড ইন পাকিস্তান’ শব্দগুচ্ছের আড়ালে যেন বাস্তবতা হারিয়ে না যায়। ‘এমজি জেডব্লিউ অটোমোবাইল পাকিস্তান’ মূলত ‘জেডব্লিউ-এসইজেড’ এবং ‘এসএআইসি’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক অটোমোটিভ সাপ্লাই চেইনের অংশ। একটি গাড়ি পাকিস্তানে সংযোজিত হওয়ার মানে এই নয় যে এর ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি বা যন্ত্রাংশগুলো সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানি। অতএব, বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত মাপকাঠি কোন দেশে সংযোজিত তা নয়, আসল বিবেচনা হওয়া উচিত গাড়িটি কেমন সেটি।

পাকিস্তানে সংযোজিত একটি ‘এমজি’ গাড়িকে একটি সাধারণ স্কোরকার্ডের ভিত্তিতে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার সমমানের গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিবেচনা হওয়া উচিত গাড়িতে কয়টি এয়ারব্যাগ আছে? মডেলটিতে কি এবিএস এবং ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল আছে? ক্র্যাশ-টেস্টে এর পারফরম্যান্স কেমন? এটি কোন নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করে? ওয়ারেন্টির মেয়াদ কতদিন? জ্বালানি বা বিদ্যুৎ বাবদ আনুমানিক খরচ কত হবে? খুচরা যন্ত্রাংশ কতটা সহজে পাওয়া যাবে? তিন, পাঁচ বা সাত বছর পর সার্ভিসিং খরচ কেমন হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- শুল্ক, কর, নিবন্ধন, ফাইন্যান্সিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের পর গাড়িটির জন্য একজন ক্রেতার প্রকৃতপক্ষে মোট কত খরচ হবে? একই নীতি বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বড় আকারের কোনো আমদানি কর্মসূচি অনুমোদন করার আগে বাংলাদেশের জানা উচিত- কে ওয়ারেন্টির নিশ্চয়তা দেবে, গাড়ির ত্রুটিজনিত কারণে তা তুলে নেওয়ার খরচ কে বহন করবে, কত দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা যাবে এবং ঢাকার বাইরে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম পাওয়া যাবে কি না।

তাই প্রস্তাবিত ৫ হাজার ৮০০ ইউনিটের আমদানি কর্মসূচিটি প্রধান অটোমোবাইল বাজারের তুলনায় ছোট হলেও, এর বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা ও ঝুঁকি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার জন্য যথেষ্ট বড়। পাকিস্তানের বর্তমান রপ্তানি রেকর্ড এ বিষয়ে একটি দরকারি প্রেক্ষাপট তৈরি করে। পাকিস্তানের সিনেটে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে ২০টি দেশে পাকিস্তান স্থানীয়ভাবে সংযোজিত মাত্র ৪৩৪টি গাড়ি রপ্তানি করেছে। এই গন্তব্যগুলোর মধ্যে ছিল জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ। এই পরিসংখ্যানের পাশে চার বছরে বাংলাদেশে ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাকে একটু বেশি আগ্রাসী ও উচ্চাকাঙ্খী মানতে হবে। পাকিস্তানের অটোমোটিভ রপ্তানির পরিমাণ এখনো বেশ সীমিত। ফলে বাংলাদেশের এই প্রস্তাবিত কর্মসূচিটি সফল হলে তা পাকিস্তানের যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য হবে। ঠিক এই কারণেই বাংলাদেশের উচিত প্রথম চালানের গাড়িগুলোকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা।যদি গাড়িগুলো ভালো পারফর্ম করে, তবে ক্রেতারাই লাভবান হবেন। বিদ্যমান গাড়ি পরিবেশকরা আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়বেন। গাড়ির দাম আরো সাশ্রয়ী হতে পারে, সুযোগ-সুবিধা ও সরঞ্জামের মান বাড়তে পারে এবং নির্মাতাদের আরো ভালো ওয়ারেন্টি ও সেবা দিতে হতে পারে। তাতে শেষ পর্যন্ত ক্রেতারাই লাভবান হবেন।তবে একই সঙ্গে অন্যান্য গাড়ি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকেও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব আহ্বান করার জন্য ঢাকার উচিত পাকিস্তানের এই চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হওয়া সুযোগটিকে কাজে লাগানো। চীন যদি কম খরচে আরো উন্নত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক গাড়ি দিতে পারে, ভারত যদি একটি প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে কমপ্যাক্ট গাড়ি দিতে পারে, থাইল্যান্ড বা ইন্দোনেশিয়া যদি আরো শক্তিশালী উৎপাদন গুণমান এবং যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে পারে, জাপানি বা কোরিয়ান নির্মাতারা যদি গাড়ির দীর্ঘস্থায়ী মেয়াদে চমৎকার নির্ভরযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা দিতে পারে; তবে বাংলাদেশের উচিত সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। যাতে ক্রেতাদের বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত একটি প্রতিযোগিতামূলক সোর্সিং কৌশল তৈরি করা। কেবল ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বাংলাদেশের ক্রেতারা যাতে অর্থপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে লাভবান হতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি আমদানিকারককে একই ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা, নির্গমন বিধি, পরীক্ষা পদ্ধতি এবং ক্রেতা-সুরক্ষার বাধ্যবাধকতার মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিটি প্রস্তুতকারককে তাদের ওয়ারেন্টির শর্তাবলী এবং ত্রুটিজনিত কারণে গাড়ি তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা স্পষ্ট করতে হবে এবং প্রতিটি গাড়িকে তার নিজস্ব কারিগরি যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।

যানবাহন আমদানির জন্য বাংলাদেশের ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অটোমোবাইল নীতিতে গাড়ির গুণমান, নিরাপত্তা এবং নির্গমন মানদণ্ড প্রণয়ন ও প্রয়োগের ওপর স্পষ্টভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সেই ব্যবস্থাগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত। এখানে আরো বড় একটি অর্থনৈতিক সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ যদি তার নিজস্ব অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ ঘটাতে চায়, তবে তাকে কৌশলগতভাবে এই আমদানি প্রস্তাবকে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশি নির্মাতাদের কেবল তৈরি গাড়ি বিক্রির জন্য নয়; বরং বাংলাদেশে সংযোজন কারখানা স্থাপন, স্থানীয় সরবরাহকারী গড়ে তোলা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে যন্ত্রাংশ তৈরি করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ফলে প্রতিযোগিতাকে একটি শিল্প-নীতি কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।

পাকিস্তানি গাড়িগুলো যদি দেশের মানদণ্ড পূরণ করে এবং ক্রেতাদের প্রকৃত মূল্য দিতে পারে, তবে বাংলাদেশের সেগুলোকে স্বাগত জানানো উচিত। তবে ঢাকার উচিত একই সঙ্গে অন্যান্য দেশ এবং নির্মাতাদের কাছ থেকেও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব আহ্বান করা। প্রশ্নটি কখনোই এটি হওয়া উচিত নয় যে, বাংলাদেশ কোন দেশকে বেশি সুবিধা দেবে? বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত, কোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি বাংলাদেশি ক্রেতাদের সবচেয়ে নিরাপদ, সুসজ্জিত এবং নির্ভরযোগ্য গাড়িটি দিতে পারছে; যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হবে সবচেয়ে সাশ্রয়ী? বিকাশমান বা ক্রমবর্ধমান একটি ক্রেতাবাজারের জন্য ঠিক এই মানদণ্ডটিই প্রাপ্য। বাণিজ্য কূটনীতি হয়তো সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে, তবে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ অটোমোবাইল বাজারে কোন গাড়িগুলো রাস্তায় চলবে তা কূটনীতিকরা নন, বরং চূড়ান্তভাবে ক্রেতারাই নির্ধারণ করবেন। সোর্স: কালের কণ্ঠ