ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

এক চড়েই বদলে যায় বলিউডের রানি “ললিতা পাওয়ার” জীবন

হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে খলনায়িকা চরিত্রের প্রতীক হয়ে আছেন ললিতা পাওয়ার। পর্দায় যতই কঠোর বা চতুর চরিত্রে তাঁকে দেখা যাক, বাস্তব জীবন ছিল সম্পূর্ণ উল্টো—কোমল মনের এই অভিনেত্রীকে জীবনভর তাড়া করেছে দুর্ভাগ্য, প্রতারণা আর ট্র্যাজেডি।

নায়িকা হিসেবে উত্থান ঘটছিল তাঁর। নির্বাক যুগ থেকে টকিজ—সব জায়গাতেই নিজেকে সফলভাবে প্রমাণ করছিলেন ললিতা। ঠিক সেই সময়েই ১৯৪২ সালের এক শুটিং সেটে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অভিনেতা-পরিচালক ভগবান দাদার সঙ্গে একটি দৃশ্যে নকল চড়ের বদলে তিনি সত্যিকারের জোরে চড় মারেন। আঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে ললিতা ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মুখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাঁ চোখের শিরা ফেটে যায় এবং তাঁর মুখ স্থায়ীভাবে বেঁকে যায়। এই বিকৃতি তাঁর নায়িকা জীবন কার্যত শেষ করে দেয়। পরে তিনি জানান, দুই বছর টানা কাজহীন ছিলেন এবং বহু ছবি থেকে বাদ পড়েন।

স্বাস্থ্য কিছুটা উন্নতি হলে ললিতা চরিত্র অভিনেত্রী হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেন। ছোট চরিত্র হলেও তাঁর অভিনয় দর্শকের দৃষ্টি কাড়ে। রাজকাপুরের ‘শ্রী ৪২০’-এ অভিনয়ের পর তিনি আবার আলোচনায় আসেন। আশির দশকে ‘রামায়ণ’-এ মন্থরা চরিত্রে অভিনয় তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত করে তোলে।

পর্দার বাইরেও তাঁর ব্যক্তিজীবন ছিল টালমাটাল। চলচ্চিত্র প্রযোজক গণপত্রাও পাওয়ারকে বিয়ে করলেও কিছুদিন পর ললিতা জানতে পারেন—স্বামী তাঁর বোনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। পরে তিনি বিয়ে করেন প্রযোজক রাজপ্রকাশ গুপ্তকে এবং তাঁদের এক পুত্রসন্তান হয়।

নব্বইয়ের দশকে ললিতা মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার জন্য তিনি পুনেতে চলে যান। ১৯৯৮ সালে, ৮২ বছর বয়সে, নিঃসঙ্গ অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় স্বামী ও ছেলে কেউই শহরে ছিলেন না; দুই দিন পর পরিচিতদের মাধ্যমে সংবাদটি জানা যায়।

অসংখ্য আঘাতের মাঝেও ললিতা পাওয়ার প্রমাণ করে গেছেন—অভিনয়ের শক্তি মুখের সৌন্দর্যে নয়, শিল্পীর গভীরতা আর পর্দার উপস্থিতিতে। তাই আজও তিনি বলিউডে স্মরণীয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

এক চড়েই বদলে যায় বলিউডের রানি “ললিতা পাওয়ার” জীবন

আপডেট সময় : ০৫:১৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে খলনায়িকা চরিত্রের প্রতীক হয়ে আছেন ললিতা পাওয়ার। পর্দায় যতই কঠোর বা চতুর চরিত্রে তাঁকে দেখা যাক, বাস্তব জীবন ছিল সম্পূর্ণ উল্টো—কোমল মনের এই অভিনেত্রীকে জীবনভর তাড়া করেছে দুর্ভাগ্য, প্রতারণা আর ট্র্যাজেডি।

নায়িকা হিসেবে উত্থান ঘটছিল তাঁর। নির্বাক যুগ থেকে টকিজ—সব জায়গাতেই নিজেকে সফলভাবে প্রমাণ করছিলেন ললিতা। ঠিক সেই সময়েই ১৯৪২ সালের এক শুটিং সেটে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অভিনেতা-পরিচালক ভগবান দাদার সঙ্গে একটি দৃশ্যে নকল চড়ের বদলে তিনি সত্যিকারের জোরে চড় মারেন। আঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে ললিতা ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মুখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাঁ চোখের শিরা ফেটে যায় এবং তাঁর মুখ স্থায়ীভাবে বেঁকে যায়। এই বিকৃতি তাঁর নায়িকা জীবন কার্যত শেষ করে দেয়। পরে তিনি জানান, দুই বছর টানা কাজহীন ছিলেন এবং বহু ছবি থেকে বাদ পড়েন।

স্বাস্থ্য কিছুটা উন্নতি হলে ললিতা চরিত্র অভিনেত্রী হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেন। ছোট চরিত্র হলেও তাঁর অভিনয় দর্শকের দৃষ্টি কাড়ে। রাজকাপুরের ‘শ্রী ৪২০’-এ অভিনয়ের পর তিনি আবার আলোচনায় আসেন। আশির দশকে ‘রামায়ণ’-এ মন্থরা চরিত্রে অভিনয় তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত করে তোলে।

পর্দার বাইরেও তাঁর ব্যক্তিজীবন ছিল টালমাটাল। চলচ্চিত্র প্রযোজক গণপত্রাও পাওয়ারকে বিয়ে করলেও কিছুদিন পর ললিতা জানতে পারেন—স্বামী তাঁর বোনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। পরে তিনি বিয়ে করেন প্রযোজক রাজপ্রকাশ গুপ্তকে এবং তাঁদের এক পুত্রসন্তান হয়।

নব্বইয়ের দশকে ললিতা মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার জন্য তিনি পুনেতে চলে যান। ১৯৯৮ সালে, ৮২ বছর বয়সে, নিঃসঙ্গ অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় স্বামী ও ছেলে কেউই শহরে ছিলেন না; দুই দিন পর পরিচিতদের মাধ্যমে সংবাদটি জানা যায়।

অসংখ্য আঘাতের মাঝেও ললিতা পাওয়ার প্রমাণ করে গেছেন—অভিনয়ের শক্তি মুখের সৌন্দর্যে নয়, শিল্পীর গভীরতা আর পর্দার উপস্থিতিতে। তাই আজও তিনি বলিউডে স্মরণীয়।