ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

মেসির চার দিনের সফরে খরচ ১৫০ কোটি

চার দিনের ভারত সফর শেষ করে ফিরে গেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। কলকাতায় সফরের উদ্বোধনী দিনে বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পুরো সফরের শেষটা হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় ভর করে। মেসির সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পলের মতো তারকারাও।

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ‘গোট’ ট্যুরে মোট খরচ হয়েছে আনুমানিক ১২০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে টিকিটের দাম পৌঁছায় ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত। শুধুমাত্র এক ঝলক দেখার আশায় হাজারো সমর্থক এই বিপুল অর্থ ব্যয় করেন।

মেসির থাকার জন্য মুম্বাইয়ের লীলা প্যালেস হোটেলের পুরো একটি ফ্লোর রিজার্ভ করা হয়। প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে এক রাতের থাকার খরচ ছিল আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, মেসির সঙ্গে ছবি তোলার ফি ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। আর সীমিত ভিআইপি ও করপোরেট অতিথিদের জন্য আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’-এ অংশ নিতে গুনতে হয়েছে প্রায় ১ কোটি রুপি পর্যন্ত।

কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লির স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও কলকাতায় দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দর্শকদের ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সল্টলেক স্টেডিয়ামে ক্ষুব্ধ দর্শকরা আসন ভাঙচুর করেন এবং মেসিকে দ্রুত মাঠ ছাড়তে হয়। পরবর্তী ভেন্যুগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ও উন্নত ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সফরের শেষ মুহূর্তে দিল্লির পরিবর্তে গুজরাটের জামনগরের বনতারায় যান মেসি। সেখানে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির আমন্ত্রণে অংশ নেন বিশেষ আয়োজনে। এই সফরে মেসিকে উপহার দেওয়া হয় রিচার্ড মিলির বিরল আরএম০০৩-ভি২ জিএমটি ট্যুরবিলিয়ন এশিয়া এডিশন ঘড়ি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১৪ কোটির বেশি।

ভারতের ভালোবাসায় আপ্লুত মেসি সফর শেষে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি লেখেন, ভারতের আতিথেয়তা ও ভালোবাসা ছিল অসাধারণ এবং দেশটির ফুটবল ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

মেসির চার দিনের সফরে খরচ ১৫০ কোটি

আপডেট সময় : ০৮:৪০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

চার দিনের ভারত সফর শেষ করে ফিরে গেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। কলকাতায় সফরের উদ্বোধনী দিনে বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পুরো সফরের শেষটা হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় ভর করে। মেসির সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পলের মতো তারকারাও।

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ‘গোট’ ট্যুরে মোট খরচ হয়েছে আনুমানিক ১২০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে টিকিটের দাম পৌঁছায় ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত। শুধুমাত্র এক ঝলক দেখার আশায় হাজারো সমর্থক এই বিপুল অর্থ ব্যয় করেন।

মেসির থাকার জন্য মুম্বাইয়ের লীলা প্যালেস হোটেলের পুরো একটি ফ্লোর রিজার্ভ করা হয়। প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে এক রাতের থাকার খরচ ছিল আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, মেসির সঙ্গে ছবি তোলার ফি ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। আর সীমিত ভিআইপি ও করপোরেট অতিথিদের জন্য আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’-এ অংশ নিতে গুনতে হয়েছে প্রায় ১ কোটি রুপি পর্যন্ত।

কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লির স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও কলকাতায় দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দর্শকদের ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সল্টলেক স্টেডিয়ামে ক্ষুব্ধ দর্শকরা আসন ভাঙচুর করেন এবং মেসিকে দ্রুত মাঠ ছাড়তে হয়। পরবর্তী ভেন্যুগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ও উন্নত ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সফরের শেষ মুহূর্তে দিল্লির পরিবর্তে গুজরাটের জামনগরের বনতারায় যান মেসি। সেখানে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির আমন্ত্রণে অংশ নেন বিশেষ আয়োজনে। এই সফরে মেসিকে উপহার দেওয়া হয় রিচার্ড মিলির বিরল আরএম০০৩-ভি২ জিএমটি ট্যুরবিলিয়ন এশিয়া এডিশন ঘড়ি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১৪ কোটির বেশি।

ভারতের ভালোবাসায় আপ্লুত মেসি সফর শেষে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি লেখেন, ভারতের আতিথেয়তা ও ভালোবাসা ছিল অসাধারণ এবং দেশটির ফুটবল ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।