
চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওই কার্যালয়ের অফিস সহকারী মেহেদি ইকবাল পাটোয়ারী। ভুক্তভোগী ও সংশ্লি ষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তাঁর লিখিত স্বাক্ষর ছাড়া বিআরটিএর লাইসেন্স শাখায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজই এগোয় না।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও লাইসেন্সসংক্রান্ত কার্যক্রম কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছেন মেহেদি ইকবাল পাটোয়ারী। বিশেষ করে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডোপ টেস্ট এন্ট্রি নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, প্রতিটি ডোপ টেস্ট এন্ট্রির জন্য জনপ্রতি ২০০ টাকা আদায় করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৩০০টির বেশি ডোপ টেস্ট হওয়ায়
প্রতিদিনই বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, নির্ধারিত অর্থ না দিলে ডোপ টেস্টের এন্ট্রি ফাইলে যুক্ত করা হয় না, এমনকি পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ করা হয় না। লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো ভুল সংশোধন বা নতুন আবেদন প্রক্রিয়ায়ও মেহেদি পাটোয়ারীর স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সূত্রগুলোর দাবি, তাঁর নির্দেশ ছাড়া কম্পিউটার অপারেটররাও কোনো তথ্য আপডেট করতে পারেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বিআরটিএর ১ নম্বর কাউন্টারকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১৫ জন দালাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যারা মেহেদি পাটোয়ারীর অধীনে পরিচালিত। এদের মধ্যে হেলাল, সাগর দাস, ইসমাইল, জলিল, অনিক ও নূরউদ্দিনের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব দালাল গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেন। এই দালালদের নিয়মিত খরচ ও পারিশ্রমিক কে দিচ্ছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম বিআরটিএতে কথিতভাবে সংবাদমাধ্যমের নামে মাসিক চাঁদা তোলা হয়। ওই অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টনের দায়িত্বে মেহেদি পাটোয়ারী রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ তিনি নিজ নামে রেখে দেন। পাশাপাশি প্রতিটি লাইসেন্স বোর্ডে তাঁর নামে ১০টি করে পাস কার্ড ইস্যু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নোয়াখালী জেলায় যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেহেদি পাটোয়ারী এবং তৎকালীন সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রকাশ্যে গ্রাহককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে বিআরটিএ কার্যালয়ে এক ব্যক্তিকে দালাল আখ্যা দিয়ে মারধরের ঘটনাটি তখন আলোচনায় আসে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযোগ হলো, সরকারি দপ্তর হওয়া সত্ত্বেও বিআরটিএ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অফিস সময়েই কবুতরের খামার পরিচালনা করছেন মেহেদি পাটোয়ারী। অভিযোগ রয়েছে, অফিস চলাকালীন সময়ের একটি বড় অংশ তিনি সেখানেই কাটান।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিআরটিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান হলেও দালাল ও দুর্নীতির এই নেটওয়ার্ক সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়াকে জিম্মি করে ফেলেছে। তারা দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেদি ইকবাল পাটোয়ারীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মেহেদি ইকবাল পাটোয়ারীকে রাঙামাটি বিআরটিএ কার্যালয়ে বদলি করা হলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো সেখানে যোগ না দিয়ে চট্টগ্রাম বিআরটিএতেই কাজ করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



























